ওঙ্কার ডেস্ক: দলের বারাসত সাংগঠনিক জেলার সভাপতি পদ থেকে আগেই সরে দাঁড়িয়েছেন সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। এবার তৃণমূল কংগ্রেসের সমস্ত সাংগঠনিক পদ থেকে সরে দাঁড়াতে চেয়ে দলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সীকে চিঠি দিলেন তিনি। মঙ্গলবারই কল্যাণীতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ডাকা প্রশাসনিক বৈঠকে হাজির হয়েছিলেন বারাসতের তৃণমূল সাংসদ। যা নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়, তিনি বিজেপিতে যোগ দেবেন বলে। এই আবহে এবার দলের একাধিকি দায়িত্ব থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার ইচ্ছে প্রকাশ করলেন একদা মমতার ছায়াসঙ্গী।
সূত্রের খবর, সুব্রত বক্সীকে লেখা চিঠিতে কাকলি লিখেছেন, ‘অত্যন্ত দুঃখ ও উদ্বেগের সঙ্গে জানাচ্ছি যে আমি অল ইন্ডিয়া তৃণমূল মহিলা কংগ্রেসের চেয়ারপার্সন পদ-সহ দলের অন্যান্য সাংগঠনিক পদ, কমিটি ও দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চাইছি।’ তিনি আরও লিখেছেন, ‘যে পদে থাকাকালীন মহিলা সাংসদের উপরে অন্য একজন অভদ্র দলীয় সাংসদের অশালীন আচরণ বন্ধ করা যায় না বা ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বের সহযোগিতা, সহানুভূতি পাওয়া যায় না, সে পদে থাকার মানে হয় না।’ তবে এ ক্ষেত্রে তিনি কাকে উদ্দেশ্য করে এই মন্তব্য করেছেন তা স্পষ্ট নয়।
উল্লেখ্য, গত ৪ মে রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর তৃণমূলের একাধিক নেতা বেসুরো গাইছেন। লোকসভার মুখ্য সচেতকের পদ আগেই কেড়ে নিয়েছেন নেতৃত্ব। তা হারানোর পরে সম্প্রতি বারাসত জেলা সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন তিনি। তৃণমূল সাংসদের নিরাপত্তার জন্য কেন্দ্রীয় বাহিনীরও বন্দোবস্ত করে দিয়েছে মোদী সরকার। সেই আবহে শুভেন্দু অধিকারীর ডাকা বৈঠকে যোগ দেওয়ায় রাজ্য রাজনীতিতে কাকলিকে নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়। যদিও মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জানান, তাঁর প্রশাসন বিশেষ বিশেষ সাংসদদের প্রশাসনিক বৈঠকে আমন্ত্রণ জানাবে। কাকলি প্রশাসনিক বৈঠকে নিজের মতামতও রেখেছেন বলে জানান শুভেন্দু। এমনকি মঙ্গলবার তাঁর সঙ্গে করমর্দনও করেছেন তিনি। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ত্ররীনমূলের সঙ্গে দূরত্ব বাড়ানোর পাশাপাশি বিজেপির সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়িয়ে চলেছেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার। তাঁর বিজেপিতে যোগদান তাই সময়ের অপেক্ষা।