ওঙ্কার ডেস্ক: হরিদ্বার বা বারানসি নয় এবার গিনিস বুকে জায়গা করে নেবে বাংলার গঙ্গা। ২১ জুন কলকাতার রেড রোডে উদযাপিত হবে আন্তর্জাতিক যোগ দিবস। থাকবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু সকালে ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’-এ হবে গঙ্গাবক্ষে যোগাভ্যাসের মেগা কার্নিভাল। তার আগে ২০ জুন, সকালে ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ এ হবে গঙ্গাবক্ষে যোগাভ্যাসের মেগা কার্নিভাল। ৫০০ নৌকোয় হবে যোগাভ্যাস। সেক্ষেত্রে তা গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে জায়গা করে নেবে বলে জানানো হয়েছে। নবান্ন সূত্রে এমনটাই জানা গিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ পর্যটন দফতর মারফৎ জানানো হয়েছে, মিলেনিয়াম পার্ক, বেলুড়-দক্ষিণেশ্বর, বাবুঘাট, প্রিন্সেপ ঘাটে হবে এই যোগ কার্নিভাল। যেখানে বিকেলে ড্রোন শো ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হতে পারে। হাওড়া ব্রিজ থেকে বিদ্যাসাগর সেতু ও মাঝের ৪২টি বাড়িকে আলোর মালায় সাজিয়ে তোলা হবে। অচেনা হয়ে উঠবে কলকাতার গঙ্গাপাড়।
প্রসঙ্গত, কলকাতার এই গঙ্গা বহু যুগ ধরেই ইতিহাসের সাক্ষী বহন করে আসছে। রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব, স্বামী বিবেকানন্দর এই পুণ্যভূমিতে যোগিরাজ শ্যামাচরণ লাহিড়ী, স্বামী যুক্তেশ্বর গিরি, স্বামী যোগানন্দর মতো ক্রিয়াযোগী জন্ম নিয়েছেন। পরবর্তীকালে নীলমণি দাস, মনোহর রায়, মনোহর আইচের মতো ব্যক্তিত্ব হঠযোগ, প্রাণায়াম এবং মুক্তহস্ত ব্যায়ামের মেলবন্ধন ঘটিয়ে বাঙালি তথা ভারতীয়দের বিশ্বমঞ্চে নিয়ে গিয়েছেন। এত সমৃদ্ধ ইতিহাস বুকে নিয়েও বাংলা যোগজগতে ক্রমশ পিছিয়ে পড়ছিল। এবার হৃতগৌরব পুনরুদ্ধারে রেড রোডের রানওয়েতে স্বপ্নের দৌড় শুরু করবে বাংলার যোগ। তার আগে গঙ্গাবক্ষ স্পন্দিত হবে ভাসমান যোগাভ্যাসে। তৈরি হবে নতুন ইতিহাস, রেকর্ড। নদীমাতৃক বাংলার সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও আধ্যাত্মিকতার মোহনা হয়ে উঠবে এই মেগা কার্নিভাল। গঙ্গার দুই পার এবং শহরের প্রধান প্রধান ঘাট-যেমন মিলেনিয়াম পার্ক, বেলুড়, দক্ষিণেশ্বর এবং বাবুঘাট হয়ে উঠবে উৎসবের উঠোন। গঙ্গাপাড়েও থাকছে চোখ-ধাঁধানো ড্রোন শো এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। জানা গিয়েছে, শুক্রবার এই অনুষ্ঠানের একপ্রস্থ রেইকি করা হয়েছে। নৌসেনা, কলকাতা বন্দরকে ইতিমধ্যেই নৌকো দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। রাজ্য সরকারের নিজস্ব কিছু নৌকোও রয়েছে। এই ইভেন্টের নোডাল অফিসার করা হয়েছে ডিজি আয়ুশ দিব্যা লোগনাথনকে। অন্যদিকে, পশ্চিমবঙ্গের স্কুল শিক্ষা দফতরের অন্তর্গত ‘পশ্চিমবঙ্গ সমগ্র শিক্ষা মিশন’ 7 জুন থেকে 21 জুন পর্যন্ত রাজ্যজুড়ে স্কুল স্তরে একগুচ্ছ বিশেষ প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রমের নির্দেশিকা জারি করেছে। সূচি অনুযায়ী, মঙ্গলবার থেকেই মালদহ ও দুই দিনাজপুরের স্কুলগুলিতে ‘যোগা ইন স্কুলস ডে’ পালনের মাধ্যমে এই কর্মযজ্ঞের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়েছে। এরপর পর্যায়ক্রমে 10 জুন উত্তর ও দক্ষিণ 24 পরগনা, হাওড়া এবং হুগলিতে মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য বিশেষ যোগাভ্যাস, 12 জুন ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া ও পশ্চিম মেদিনীপুরের জঙ্গলমহল তথা উপজাতি প্রধান এলাকায় ‘যোগা ফর ট্রাইবাল বেঙ্গল’ এবং 13 জুন সংশ্লিষ্ট জেলাগুলির চা-বাগান এলাকায় প্রবীণ নাগরিক ও চা-শ্রমিকদের জন্য বিশেষ যোগ শিবিরের আয়োজন করা হয়েছে।