ওঙ্কার ডেস্কঃ বিধানসভা ভোটের আগে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে সিঙ্গুরে। প্রায় দু দশক বাদে ফের সিঙ্গুর শিরোনামে। কিছুদিন আগেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সিঙ্গুরে সভা করে গিয়েছেন। বুধবার সেই সিঙ্গুরের মাটিতেই সভা করলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
বুধবারের মঞ্চ থেকে সিঙ্গুরের জমি আন্দোলনের স্মৃতিচারণা করলেন তিনি। মনে করিয়ে দিলেন, কৃষি জমি বাঁচাতে তাঁর লড়াইয়ের কথা। ২৬ দিন অনশনের কথা। বাম সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তাঁরা ফসলি জমি অধিগ্রহণ করে শিল্প আনতে চেয়েছিল। সেই নিয়েই লড়াই করেছিলেন মমতা। তারপরের ইতিহাস সকলের জানা। বুধবার সেই সিঙ্গুরেই ৮ একর জমির উপর ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক হয়েছে বলে জানালেন মমতা। তবে স্পষ্ট করে দিলেন যে, শিল্প হবে, কিন্তু কৃষি জমিতে নয়।
কিছুদিন আগে মোদী এসেছিলেন সিঙ্গুরে। সিঙ্গুরবাসীর আশা ছিল, প্রধানমন্ত্রী অন্তত শিল্প নিয়ে কথা বলবেন। কিন্তু সব বিষয় কথা বললেও শিল্প নিয়ে কোনও কথা বলেননি তিনি। বুধবার সভা থেকে মোদী সরকারের একহাত নেন মমতা। বলেন, “সিঙ্গুরের জমি ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য আমি নিজেকে বাজি রেখেছিলাম। কথা দিয়েছিলাম। জমি ফিরিয়ে দিয়েছি। তোমরা কী করেছ? শুধু মুখে বড় বড় বুলি? একটা ইট কি পুঁতেছ? বাংলায় মুখে বড় বড় বুলি চলবে না। মমতাকে সিঙ্গুরবাসীর পাশে আছেন, তা বরাবরের মত আবারও বুঝিয়ে দিলেন মমতা।
সিঙ্গুরের সভা থেকে ভারচুয়ালি ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী। ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকার প্রকল্পের উদ্বোধন করেন। জানান, ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে হবে।
এছাড়াও উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। জানান, আশা-আইসিডিএস কর্মীদের জন্য ১০ হাজার করে দেওয়া হয়েছে মোবাইল ফোন কেনার জন্য। কৃষকদের ১০ হাজার করে দিচ্ছি। শস্যবিমায় কৃষকদের ৪০০০ কোটির বেশি দেওয়া হয়েছে। ২৯০ উদ্বাস্তু কলোনিকে স্বীকৃতি। কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে ৮ একর জমির উপর সিঙ্গুর ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক হয়েছে। শিল্প হবে, তবে কৃষি জমিতে নয়। ভিক্ষা করব না। রাজ্যের টাকায় সব হবে। বাংলায় কথা বললে, রাজস্থানে, বিহারে, ওড়িশায় মারে। আমরা তো তা করি না। আমাকে আঘাত করলে প্রত্যাঘাত হবে। এর পাশাপাশি বুধবার সভা থেকে বাংলার বাড়ির টাকাও উপভোক্তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
