ওঙ্কার ডেস্ক: নদিয়ার নবদ্বীপে সরকারি ত্রাণসামগ্রী মজুতকাণ্ডকে ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়াল। অভিযোগের জেরে নবদ্বীপ পুরসভার চেয়ারম্যান বিমানকৃষ্ণ সাহাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ। শনিবার ভোররাতে এই পদক্ষেপের পর থেকেই শহরের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি সরকারি ত্রাণসামগ্রী বণ্টন নিয়ে একাধিক অভিযোগ সামনে আসে। অভিযোগ ছিল, সাধারণ মানুষের জন্য বরাদ্দ ত্রাণসামগ্রীর একটি অংশ যথাযথভাবে বিতরণ না করে নির্দিষ্ট জায়গায় মজুত রাখা হয়েছিল। এই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে প্রশাসন। তদন্তে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে আসার পরই পুলিশ সক্রিয় হয় এবং চেয়ারম্যানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে।
সূত্রের খবর, তদন্তকারীরা জানতে চেষ্টা করছেন কী পরিমাণ ত্রাণসামগ্রী মজুত রাখা হয়েছিল, সেগুলি কোথা থেকে আনা হয়েছিল এবং কেন সাধারণ মানুষের মধ্যে বিতরণ করা হয়নি। পাশাপাশি ত্রাণসামগ্রী সংরক্ষণ, পরিবহণ এবং বণ্টন সংক্রান্ত নথিপত্রও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই ঘটনায় অন্য কোনও ব্যক্তি বা প্রশাসনিক আধিকারিকের ভূমিকা রয়েছে কি না, তাও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই নবদ্বীপে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়। সরকারি সম্পদ ও ত্রাণসামগ্রী ব্যবহারে দীর্ঘদিন ধরেই নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠছিল। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের মধ্যেও ক্ষোভ দেখা গিয়েছে। তাঁদের বক্তব্য, দুর্যোগ বা জরুরি পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের জন্য বরাদ্দ ত্রাণসামগ্রী যদি প্রকৃত উপভোক্তাদের কাছে না পৌঁছয়, তাহলে তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক বিষয়। তাই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের দাবি উঠেছে।
পুলিশ ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে বলে জানা গিয়েছে। তদন্তের স্বার্থে বিভিন্ন নথি সংগ্রহের পাশাপাশি আর্থিক লেনদেনের বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, কোনও ধরনের অনিয়ম প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ফলে নবদ্বীপের এই ত্রাণসামগ্রী মজুতকাণ্ডের তদন্ত আগামী দিনে আরও কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ মানুষের।