ওঙ্কার ডেস্ক: ইরানের আকাশে এখনও উড়ছে বোমারু বিমান। কবে থামবে এই যুদ্ধ তা এখনও কেউ বলতে পারছে না। এর আগেও অনেকবার আমেরিকা অ ইরান এই দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা চুক্তি থাকলেও যুদ্ধ থামার কোন ও লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। দু’দেশের মধ্যে একটি শান্তিচুক্তির চেষ্টা চলছে। তবে দু’দেশই নিজের নিজের শর্তে অটল। উভয় পক্ষই চুক্তির শর্ত নিয়ে দর কষাকষি চালাচ্ছে। বিভিন্ন সূত্রে দাবি, একটি খসড়া চুক্তি তৈরি হয়েছে। ইরান-আমেরিকার মধ্যে যুদ্ধের অবসান ঘটাতে পারে এমন কী কী বিষয় রয়েছে, যা নিয়ে কৌতূহল নানা মহলে।
এক আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমের দাবি, ইতিমধ্যে দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ বিরতি সঙ্ক্রান্ত চুক্তি হয়েছে। এমনকি দুই দেশ ও এই চুক্তি তে সম্মতি দিয়েছে। কিন্তু এই চুক্তির পেছনে গড়িমসি করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ দের মতে এই চুক্তির ফলে দুই দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেসি লাভবান হবে ইরান। চুক্তির ফলে অর্থনৈতিক ভাবে আমুল পরিবর্তন হবে ইরানের। ইতিমদ্ধেই একটি খসড়া চুক্তি সংগঠিত হয়েছে। আলোচনা সম্পর্কে অবগত কূটনীতিকেরা জানাচ্ছেন, সংঘর্ষবিরতি সত্ত্বেও আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে বিক্ষিপ্ত গোলাগুলি চলেছে। তার ফলে দ্রুত চুক্তি সম্পন্ন করার তাগিদও বেড়েছে। নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আধিকারিকদের মতে সংঘর্ষের মাত্রা বাড়লে আলোচনা ব্যাহত হতে পারে। সেই কারণে যত দ্রুত সম্ভব স্থায়ী সমাধানসূত্রে পৌঁছোতে চাইছেন মধ্যস্থতাকারীরা। খসড়া চুক্তির অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক হল, ইরানের জন্য প্রায় ৩০ হাজার কোটি ডলার মূল্যের আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ এবং পুনর্গঠন তহবিল অন্তর্ভুক্ত করা। চলমান সংঘর্ষের কারণে আর্থিক ভাবে ইরান যে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তা পুনরুদ্ধার করার চেষ্টায় এই প্যাকেজের প্রয়োজনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ভবিষ্যতে ইরানে রিয়্যাল এস্টেট, পরিকাঠামো এবং জ্বালানি খাতে আমেরিকা থেকে বিনিয়োগও আসতে পারে। শুধু তা-ই নয়, ইরানের উপর চাপানো মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিও উল্লেখ রয়েছে খসড়া চুক্তিতে। সংশ্লিষ্ট কর্তারা জানিয়েছেন, আলোচনা এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে।
আলোচনার আর একটি প্রধান শর্ত হল বাজেয়াপ্ত শত শত কোটি ইরানি সম্পদ ছেড়ে দেওয়া। ইরানে আর্থিক ক্ষতি পুনরুদ্ধারে সহায়তা করবে বলে মনে করছেন অনেকে। ধারণা, ইরানের প্রায় ২,৪০০ কোটি ডলার সম্পত্তি বিদেশের ব্যাঙ্কগুলিতে বাজেয়াপ্ত রয়েছে। সেই সব বাজেয়াপ্ত সম্পত্তি মুক্ত করে দিলে, তা ইরানের আর্থিক উন্নতিতে সহায়ক হবে।
আলোচনা সম্পর্কে অবগত কর্তাদের মতে, প্রাথমিক ভাবে ৬০ দিনের জন্য সংঘাত বন্ধ রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। আলোচনা যে পথে অগ্রসর হবে, সে ভাবেই এই মেয়াদবৃদ্ধির সম্ভাবনা। তবে ইরানের তরফে দাবি করা হয়েছে, সংঘর্ষবিরতির মধ্যে লেবাননকেও অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। কোনও ভাবেই লেবাননে হামলা চালানো যাবে না। কিন্তু এইদিকে আমেরিকা এই শর্ত মানতে নারাজ। এর আগেও বহুবার দুই দেশের মধ্যে শান্তি চুক্তি হলেও তা পরবর্তীকালে লঙ্ঘন করে গোলাগুলি চালিয়েছে দুই দেশ।
অপরদিকে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে সবচেয়ে বিতর্কিত বিষয় হরমুজ প্রণালী। দু’পক্ষের আলোচনার ভিত্তিতে তৈরি অন্তর্বর্তিকালীন চুক্তির খসড়ায় বলা হয়, তেহরান আবার হরমুজ় প্রণালী খুলে দেবে এবং ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা শুরু হবে। তবে তেহরান এ-ও জানিয়ে রেখেছে, ভবিষ্যতে ওই প্রণালী দিয়ে যাতায়াতকারী জাহাজকে কর দিতে হবে ইরান এবং ওমানকে। অন্য দিকে, পারমাণবিক বিষয়ে আলোচনা দ্বিতীয় পর্যায়ে ঠেলা হয়েছে। তার পরের ধাপে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হোক! যদিও এ বিষয়ে দু’দেশই কোনও ইতিবাচক মন্তব্য করেনি।