ওঙ্কার ডেস্ক: তাঁর বিরুদ্ধে সোনা ব্যবসায়ীকে খুনের অভিযোগ ছিল। সেই অপসারিত বিডিও প্রশান্ত বর্মণ মঙ্গলবার গ্রেফতার হন পথ সুরক্ষা বিধি ভঙ্গের অভিযোগে। ওই দিন আদালতে তাঁকে পেশ করা হলেও সল্টলেকের স্বর্ণব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যার খুন সংক্রান্ত নথি বিচারকের কাছে পৌঁছয়নি। আর সে কারণে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জামিন পেয়ে গেলেন রাজগঞ্জের অপসারিত বিডিও। বিচারক ১০০০ টাকার বন্ডের বিনিময়ে জামিন দেন তাঁকে।
পুলিশ সূত্রে খবর, প্রশান্তের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতাএ একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছিল। এছাড়া মোটর ভেহিকল আইনের ১৮৪, ১৮৫ ধারায়ও এফআইআর করা হয়েছিল। বেপরোয়া ভাবে গাড়ি চালানোর অভিযোগে তাঁকে গ্রেফতার করে মঙ্গলবার বারাসত আদালতে পেশ করা হয়। কিন্তু উপযুক্ত নথির অভাবে বিচারক তাঁকে জামিন দিয়ে দেন। আদালত সূত্রে খবর, মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত বিচারক অপেক্ষা করেছিলেন।
প্রসঙ্গত, প্রশান্তের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে স্বর্ণব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যার খুনের নেপথ্যে তাঁর হাত রয়েছে। ২০২৫ সালের ২৯ অক্টোবর নিউটাউন থানার যাত্রাগাছির খালধার থেকে স্বপনের দেহ উদ্ধার হয়। সল্টলেকের দত্তাবাদের স্বর্ণব্যবসায়ী ছিলেন তিনি। অপহরণ করে ওই সোনা ব্যবসায়ীকে খুন করা হয় বলে অভিযোগ। খুনের নেপথ্যে প্রশান্তের হাত রয়েছে বলে তদন্তকারীদের অনুমান। এই খুনের ঘটনায় বারাসত ও বিধাননগর মহকুমা আদালতের দ্বারস্থ হয়ে আগেভাগে জামিন নিয়ে রেখেছিলেন প্রশান্ত। যদিও বিধাননগর পুলিশ প্রশান্তের বিরুদ্ধে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়। হাইকোর্ট আগাম জামিনের সেই নির্দেশ খারিজ করে দেয়। বিচারপতি বলেন, তাঁকে আত্মসমর্পণ করতে হবে। গত ২৩ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্টও প্রশান্তকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেয়। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ সত্ত্বেও আত্মসমর্পণ করেননি প্রশান্ত। পুলিশের ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিলেন তিনি এত দিন। অবশেষে গ্রেফতার হলেও জামিন পেয়ে গেলেন।