ওঙ্কার ডেস্ক: তৃণমূল জমানায় বিরোধী শিবিরের বিধায়কদের প্রশাসনিক বৈঠকে ডাকা হতো না বলে অভিযোগ ছিল। কিন্তু পালাবদলের পর রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারী শপথ নেওয়ার পর সেই প্রথায় ইতি টেনেছেন। বিধানসভায় দাঁড়িয়ে শুভেন্দু জানিয়েছিলেন, তাঁর সরকার বিরোধীদের যথাযথ সম্মান ও মর্যাদা দেবেন। তার পরে নদিয়ায় প্রশাসনিক বৈঠকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে। তৃণমূলের ওই সাংসদ সেই ডাকে সাড়া দিয়ে উপস্থিতও হয়েছিলেন। এবার নবান্নে প্রশাসনিক বৈঠকে ডাক পেয়ে পৌঁছলেন বিধায়ক ফিরহাদ হাকিম এবং কুণাল ঘোষ।
বুধবার নবান্ন সভাঘরে কলকাতা, হাওড়া এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার প্রশাসনিক বৈঠক হয়েছে। সেই বৈঠকে যেমন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, সন্দীপন সাহারা ছিলেন তেমন কুণাল ঘোষ, ফিরহাদ হাকিমরা ছিলেন। যা তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। এমনিতেই ঋতব্রত ও সন্দীপনকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। সই কাণ্ডে স্পিকারের কাছে অভিযোগ করায় দুই বিধায়ককে দল থেকে তাড়িয়েছেন মমতা। যা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল চলছে। এই পরিস্থিতিতে বুধবারই বিধানসভায় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়রা দাবি করেছেন তাঁদের মধ্যে থেকে বিরোধী দলনেতা বাছাই করতে হবে। তৃণমূলের এই বিদ্রোহী বিধায়করা স্পিকারের কাছে দাবি করেছেন বিরোধী দলনেতা হিসেবে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে স্বীকৃতি দেওয়া হোক। উপদলনেতা হিসাবে প্রস্তাব করা হয়েছে চার জনের নাম— সাবিনা ইয়াসমিন, জাভেদ খান, শিউলি সাহা এবং সন্দীপন সাহা।
প্রসঙ্গত, তৃণমূল কংগ্রেস ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে বিরোধী অবস্থানে নেমে যাওয়ার পর মমতা বিরোধী দলনেতা করেছিলেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে। কিন্তু তৃণমূলের বিদ্রোহী বিধায়করা ওই সিদ্ধান্ত মানবেন না বলে স্পিকারের কাছে অভিযোগ করেন। শুধু তাই নয়, শোভনদেবকে বিরোধী দলনেতা মনোনয়নের জন্য যে বৈঠক হয়েছিল সেখানে তাঁদের মধ্যে অনেকের সই জাল করা হয়েছে বলে স্পিকারের কাছে অভিযোগ জানিয়েছিলেন সন্দীপন এবং ঋতব্রত। এই আবহে বুধবার নবান্নের বৈঠকে বিদ্রোহী বিধায়কদের পাশাপাশি কুণাল ফিরহাদরা যোগ দেওয়ায় নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে।