ওঙ্কার ডেস্ক: ৪ ঠা মে বিজেপির জয়ের পরে ফলতা পুনর্নির্বাচনের ফল নিয়ে সবার মধ্যেই তৈরি হয়েছিল। ১ মে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হওয়া পুনর্নির্বাচনের ফল কী হয়, তা জানতেই এখন চূড়ান্ত প্রহর গোনা। সেইমত সেই ভোটের ফলাফল যে বিজেপির দিকেই যাবে তা অনেক আগেই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল। এক লক্ষ ন’হাজারেরও বেশি ভোটে ফলতায় জিতলেন বিজেপি প্রার্থী। কিন্তু বিজেপির জয়ের ব্যবধানের চেয়েও চমকপ্রদ হল তৃণমূলের ফলাফল। মাত্র দু’বছর আগে ‘কুখ্যাত ডায়মন্ড হারবার মডেলে’ সওয়ার হয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যে ফলতা থেকে বিজেপি-কে এক লক্ষ ৬৮ হাজার ভোটে পিছনে ফেলেছিলেন, সেই ফলতাতেই এ বার অভিষেকের দল বিজেপির চেয়ে প্রায় এক লক্ষ ৪২ হাজার ভোটে পিছিয়ে পড়ল।ফলাফল বলছে, প্রদত্ত ভোটের ৭১ শতাংশ গিয়েছে বিজেপির ঝুলিতে। ২০২৪ সালে ফলতায় এক শতাংশ ভোট পাওয়া সিপিএম উঠে এসেছে ১৯ শতাংশে। আর ২০২৪ সালে ৮৯ শতাংশ ভোট পাওয়া তৃণমূল নেমে এসেছে মাত্র চার শতাংশে। সিপিএম ছাড়া সব বিরোধীরই জামানত বাজেয়াপ্ত।
অপরদিকে ২০২৪ সালে ডায়মন্ড হারবারের ভোট এবং ফলাফল নিয়ে নানাবিধ প্রশ্ন উঠেছিল। অভিষেক জিতেছিলেন প্রায় ৭ লাখ ১১ হাজার ভোটে। প্রশ্ন উঠেছিল দেদার ছাপ্পা রিগিং নিয়ে। সেই সময়ে সিপিআইএম- র ভোট শতাংশ ছিল এক শতাংশ। এবার সেই ভোটের গ্রাফ একেবারে বেড়ে ১৯ শতাংশ তে এসে দাঁড়িয়েছে। তৃণমূলীর পুস্পা ভোটের আগে নিজের নাম প্রত্যাহার করে নিতেই এই ঘটনা ঘটেছে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। অপরদিকে প্রধান বিরোধী শক্তি হিসাবে সিপিএমের নাম উঠে আসা ফল স্পষ্ট হতেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সমাজমাধ্যমে লেখেন, ‘‘প্যারাশুটে নেমে সেনাপতি আখ্যা পাওয়া এক জালিয়াত, এমন কোনও অপরাধ নেই, যা সংগঠিত করেনি। নিজের অপরাধ সিন্ডিকেটকে প্রতিষ্ঠিত করতে গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধ করতেও কোনও কসুর করেনি এই বাঘের ছাল পরিহিত বেড়াল।’’ নিশানা যে অভিষেক তা বলার অপেক্ষা রাখে না।