স্পোর্টস রিপোর্টার : গোটা মরশুমটাই স্বপ্নের মতো কাটিয়েছে ১৫ বছরের ‘ওয়ান্ডার কিড’ বৈভব সূর্যবংশী। দল ফাইনালে না উঠলেও আই পি এলে নয়া ইতিহাস গড়ল সে। শুভমান গিল, বিরাট কোহলিদের চেয়ে এক ম্যাচ কম খেলেও আই পি এল ২০২৬-এ অরেঞ্জ ক্যাপ জিতে নিল বৈভব। এই মরশুমে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ রান প্রাপক এই কিশোর। আর কমলা টুপির মালিক হয়ে গড়ে ফেলল নয়া রেকর্ড। আই পি এলে ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সি অরেঞ্জ ক্যাপজয়ী ক্রিকেটার হলো বৈভব। ১৬ ম্যাচে মোট ৭৭৬ রান করেছে বৈভব। তার গড় ছিল ৪৮.৫০ এবং স্ট্রাইক রেট ২৩৭.৩০। এর মধ্যে রয়েছে একটি সেঞ্চুরি ও পাঁচটি হাফ সেঞ্চুরি। ৯০-এর ঘরে আউট হয়েছেন দু’বার। গোটাআই পি এলে মোট ৬৩টি বাউন্ডারি ও ৭২টি ছক্কা মেরেছে ১৫ বছরের এই কিশোর।তবে শুধু অরেঞ্জ ক্যাপ নয়। ‘মোস্ট ভ্যালুয়েবল প্লেয়ার অ্যাওয়ার্ড’, ‘এমার্জিং প্লেয়ার অফ দ্য সিজন’,’ সুপার স্ট্রাইকার অফ দ্য সিজন’ এবং ‘সুপার সিক্সেস অফ দ্য সিজন’, এই সবকটি পুরস্কার বৈভবের ঝুলিতে। এরপরেই প্রাইজ ডিস্ট্রিবিউশন সেরিমনি অনুষ্ঠানের সঞ্চালক রবি শাস্ত্রী তাঁকে প্রশ্ন করে বসেন, “এমনভাবে বোলারদের পেটাও! কত গ্লাস দুধ খাও রোজ ?”
সেই প্রশ্নের উত্তরে বৈভব সূর্যবংশী জানান, “মাঝে মাঝে চাপ লাগে। আমি এখন দুধ খাচ্ছি না স্যার। আমি শুধু আমার গেমে ফোকাস করি। প্রথম বলটা নজরে রাখি। মনে হয়, আমি পারব। ব্যাস, অল আউট অ্যাটাকে যাই। এই আর কী! এই সিজন থেকে আমি অনেককিছু শিখেছি। চাপের মুহূর্তে কীভাবে মাথা ঠাণ্ডা রেহে ম্যাচ বের করতে হয়, কীভাবে গেমপ্ল্যান পরিবর্তন করতে হয়, একইরকম পরিকল্পনা নিয়ে পুরো ম্যাচ খেলা যায়না। তাই পরিস্থিতি অনুযায়ী কীভাবে সিদ্ধান্ত নিতে হয়, এইসব শিখেছি।দলকে কীভাবে সিচুয়েশন অনুযায়ী, সার্ভিস দেওয়া যায়। এই সবকিছু আমি শিখেছি এই মরশুমে। যেহেতু অনেক লম্বা সিজন, অনেক ম্যাচ খেলতে হয়। তাই ফিট থাকতে গেলে তো অবশ্যই ফিটনেসের দিকে নজর দিতেই হবে। আমাদের দলে সবাই খুব সাপোর্টিভ। সিনিয়র ক্রিকেটার থেকে শুরু করে সাপোর্ট স্টাফ, প্রত্যেকে আমার পাশে দাঁড়ায়। অনেক কিছু শিখি আমি।”বোর্ড সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া সাংবাদিকদের বলেন, ‘এই আই পি এলে সত্যিই অসাধারণ ছিল। আমি আশা করি দর্শকরা সকলে এই মরশুম উপভোগ করেছেন। আর সিবি কে টানা দু’বার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য অভিনন্দন জানাই। বৈভব সূর্যবংশী একজন অসাধারণ খেলোয়াড়, ওর ভবিষ্যৎ খুব উজ্জ্বল। বিসিসিআই ওকে আরও বড় স্তরে নিয়ে যেতে সব ধরনের সাহায্য করবে।বৈভব সবচেয়ে কম বয়সে অরেঞ্জ ক্যাপ জিতে আগের সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। এর আগে গুজরাট টাইটান্সের সাই সুদর্শন ২৩ বছর ২৩১ দিন বয়সে এই পুরস্কার জিতেছিলেন। আর শুবমান গিল ২০২৩ সালে ২৩ বছর ২৬৩ দিন বয়সে এই কৃতিত্ব স্পর্শ করেছিলেন।’