ওঙ্কার ডেস্ক: সাত সকালে ভয়াবহ ঘটনা দক্ষিণ দিনাজপুরের গঙ্গারামপুর শহরে। স্ত্রীকে খুন করে তাঁর কাটা মুন্ডু হাতে নিয়ে ঘোরার অভিযোগ স্বামীর বিরুদ্ধে। প্রতিবেশীদের দাবি, বাড়ির কাছের একটি মন্দিরে স্ত্রীর কাটা মুন্ডু নিয়ে বসেছিলেন অভিযুক্ত। পরে স্থানীয়দের চিৎকারে মন্দির থেকে বাইরে বেরিয়ে আসেন তিনি। তাঁর এক হাতে ছিল স্ত্রীর কাটা মুন্ডু, অন্য হাতে একটি ধারালো অস্ত্র।
পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযুক্তের নাম রিন্টু ঘোষ। গঙ্গারামপুর পুরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের নারায়ণপুর এলাকায় তাঁর বাড়ি। স্থানীয়রা জানান, একসময় সরকারি বাসের কন্ডাক্টর হিসেবে কাজ করতেন তিনি। কয়েক দিন আগে সেই কাজ ছেড়ে দেন অথবা তাঁকে কাজ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এরপর থেকে বাড়িতেই থাকতেন রিন্টু। এলাকার বাসিন্দাদের কাছে তিনি শান্ত স্বভাবের বলেই পরিচিত ছিলেন। এমন ঘটনায় তাই হতবাক প্রতিবেশীরা।
স্থানীয়দের বয়ান অনুযায়ী, এলাকার মন্দিরটি সাধারণত খোলাই থাকে। বুধবার সকালে সেখানে রিন্টুকে বসে থাকতে দেখেন কয়েকজন। দীর্ঘক্ষণ পরেও তাঁকে মন্দির থেকে বেরোতে না দেখে এক ব্যক্তি ভিতরে উঁকি দেন। তখনই ভয়াবহ দৃশ্য চোখে পড়ে তাঁর। তাঁর চিৎকার শুনে আশপাশের বাড়ি থেকে লোকজন ছুটে আসেন। মন্দিরের ভিতরে রিন্টুকে ওই অবস্থায় দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন তাঁরা। এরপর মন্দিরের সামনে ভিড় জমতে শুরু করলে কাটা মুন্ডু হাতে নিয়েই বাইরে বেরিয়ে আসেন অভিযুক্ত। তাঁর হাতে ধারালো অস্ত্রও ছিল। ভয়ে পিছিয়ে যান উপস্থিত লোকজন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় গঙ্গারামপুর থানার পুলিশ। অভিযুক্তকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। পুলিশ উদ্ধার করেছে তাঁর স্ত্রী সীমা সরকারের কাটা মুন্ডু এবং ধড়বিহীন দেহ। কী কারণে এই ঘটনা তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।