ওঙ্কার ডেস্ক: ইরান ও আমেরিকার মধ্যে চলমান তীব্র কূটনৈতিক টানাপোড়েনের আবহে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে সম্ভাব্য উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ঘিরে জটিলতা তৈরি হয়েছে। সূত্রের খবর, ইরানের ৭০ জন সদস্য বিশিষ্ট একটি প্রতিনিধিদল পাকিস্তানে পৌঁছালেও, সরাসরি আলোচনায় বসার আগে একাধিক কঠোর শর্ত জুড়ে দিয়েছে তেহরান। ফলে বহুল প্রত্যাশিত এই বৈঠক আদৌ শুরু হবে কি না, তা নিয়েই অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে।
ইরানের তরফে জানানো হয়েছে, আঞ্চলিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে কোনও আলোচনাতেই তারা অংশ নেবে না। বিশেষ করে লেবাননে চলতে থাকা সামরিক উত্তেজনা এবং ইজরায়েলি হামলার প্রসঙ্গকে সামনে রেখে তেহরান স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে ওই সংঘাত বন্ধের নিশ্চয়তা না মিললে আলোচনার টেবিলে বসা সম্ভব নয়। একই সঙ্গে আমেরিকার কাছে থাকা ইরানের বিপুল অঙ্কের ‘ফ্রোজেন অ্যাসেট’ মুক্ত করার দাবিও জোরালোভাবে তোলা হয়েছে। তাছাড়া ভবিষ্যতে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ না নেওয়ার লিখিত নিশ্চয়তাও চাইছে তারা।
অন্যদিকে, আমেরিকার অবস্থান অনেকটাই কঠোর। ওয়াশিংটনের মতে, এই ধরনের শর্ত আগে থেকেই মেনে নেওয়া সম্ভব নয় এবং আলোচনার মূল উদ্দেশ্যই হওয়া উচিত পারস্পরিক সমাধানের পথ খোঁজা। মার্কিন প্রশাসনের একাংশের মতে, ইরান ইচ্ছাকৃতভাবে আলোচনার প্রক্রিয়াকে জটিল করে তুলছে, যাতে কৌশলগতভাবে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করা যায়। এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা নিতে চাইলেও, দুই পক্ষের অনমনীয় অবস্থানের কারণে সেই প্রচেষ্টা কতটা সফল হবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। ইসলামাবাদে এই বৈঠককে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে, এবং আন্তর্জাতিক মহলও এই আলোচনার দিকে কড়া নজর রাখছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই বৈঠক সফল হলে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা কিছুটা হলেও প্রশমিত হতে পারে। কিন্তু শর্ত ও পাল্টা শর্তের জেরে আলোচনা শুরুতেই যদি ভেস্তে যায়, তাহলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। এর প্রভাব শুধু ইরান-আমেরিকা সম্পর্কেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং গোটা অঞ্চলের নিরাপত্তা ও বিশ্ব অর্থনীতির উপরও তা গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।