শালবনি জমি দুর্নীতি মামলায় বড়সড় মোড়। তদন্তের জাল এবার গিয়ে পৌঁছল ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় পর্যন্ত। সিআইডি হেফাজতে থাকা তাঁর আপ্তসহায়ক সুমিত রায়ের বয়ানে উঠে এসেছে অভিষেকের নাম। আর তাতেই এই মামলার ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।
তদন্তকারী সূত্রে খবর, টানা জেরার মুখে সুমিত রায় জানিয়েছেন, তিনি যা কিছু করেছেন, সবটাই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে। বিএনএসএস-এর ১৮০ ধারায় তাঁর এই গোপন জবানবন্দি রেকর্ড করেছে সিআইডি। উল্লেখ্য, গত ১০ সেপ্টেম্বর কালীঘাটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি থেকেই গ্রেপ্তার করা হয় সুমিত রায়কে। তাঁর বিরুদ্ধে শালবনিতে সরকারি খাস জমি ভুয়ো নথি তৈরি করে বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। সেই মামলাতেই আজ, শনিবার তাঁকে আদালতে তোলা হয়।
এর আগে এই মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছিলেন তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক সুজয় হাজরা। তাঁকে জেরা করেই সুমিতের নাম সামনে আসে। সিআইডির চার্জশিট অনুযায়ী, দুর্নীতির বিপুল অঙ্কের টাকা সুজয়ের হাত ঘুরে সুমিতের অফিসে আসত। এই দাবির সপক্ষে অভিষেকের দুই দেহরক্ষী এবং সুজয় হাজরার গাড়ির চালকের বয়ানকে প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরছে সিআইডি।
সরকারি আইনজীবী সৈয়দ নাজিম হাবিব এ প্রসঙ্গে বলেন, “হেফাজতে থাকাকালীন সুমিত রায়কে জেরা করে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলেছে। তাঁর বয়ান রেকর্ড করা হয়েছে, মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। অন্য ধৃতদের সঙ্গে মুখোমুখি বসিয়েও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।”এদিন আদালতে সুমিতের জামিনের আবেদন খারিজ হয়ে যায়। বিচারক আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তাঁকে ৫ দিনের সিআইডি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন।
সুমিতের এই বিস্ফোরক স্বীকারোক্তির পর এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, এই মামলায় কি এবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে তলব করবে সিআইডি? রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে।