ওঙ্কার ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরাতে উদ্যোগী পাকিস্তান দ্বিতীয়বারের মত কার্যে সফল না হয়ে সরাসরি ফোনলাপ সারলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে। সংবাদ সংস্থা রায়টার্সের সুত্র অনুযায়ী সোমবার ইরান আমেরিকার মধ্যকার শান্তি বৈঠক কার্যত ভেস্তে যাওয়ার পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের শরণাপন্ন হয় পাকিস্তানের স্বঘোষিত ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে হরমুজ প্রণালী সংক্রান্ত বিষয়ে কথোপকথন হয় দুই নেতৃত্বের মধ্যে।
ফোনালাপে আসিম মুনির স্পষ্টভাবে মার্কিন প্রশাসনের কাছে উদ্বেগ প্রকাশ করেন যে, হরমুজ প্রণালীতে ক্রমবর্ধমান অস্থিরতা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করতে পারে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সামুদ্রিক রুটে যেকোনও ধরনের সামরিক সংঘাত বা অবরোধ শুধু আঞ্চলিক নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপরও বড়সড় প্রভাব ফেলতে পারে বলেই তিনি সতর্ক করেন। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তি আলোচনার পথ আরও কঠিন হয়ে উঠবে।
প্রতিউত্তরে ডোনাল্ড ট্রাম্প পরিস্থিতির গুরুত্ব স্বীকার করে নেন এবং বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে পর্যবেক্ষণ করার আশ্বাস দেন বলে জানা গিয়েছে। যদিও তিনি সরাসরি কোনও নীতিগত পরিবর্তনের ঘোষণা করেননি, তবে কূটনৈতিক স্তরে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।
বর্তমান পরিস্থিতিতে পাকিস্তান নিজেকে একটি সম্ভাব্য মধ্যস্থতাকারী হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে। ইসলামাবাদ ইতিমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপনের ক্ষেত্রে ভূমিকা নেওয়ার আগ্রহ দেখিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পাকিস্তানের এই উদ্যোগ একদিকে আন্তর্জাতিক স্তরে তার কূটনৈতিক গুরুত্ব বাড়ানোর প্রচেষ্টা, অন্যদিকে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার একটি কৌশলগত পদক্ষেপ। তবে এই প্রক্রিয়া মোটেও সহজ নয়। এর মধ্যে হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, তা আলোচনার পরিবেশকে আরও কঠিন করে তুলছে।