প্রবেশ অবাধ
কেতকীপ্রসাদ রায়
অনেকদিন এ বাড়ির উঠানে কেউ পা রাখেনি। জেব্রা কাটা রাস্তা পার হয়ে ব্রিটিশ আমলের লম্বা ঢাউস সদর দরজা ঠেলে কেউ ভুল করে প্রবেশ করেনি। সারিবদ্ধ গাছগুলোতে ফুল ফোটে , ফুল ঝরে পড়ে। লনের টবে ঝোলানো পাহাড়ী বনসাই দুলে দুলে বাতাসের মৃদাঙ্গের তালে তালে সারাদিন একা একা খেলা করে। মখমলের মতো সবুজ ঘাসের কার্পেটের উপর দৌড়ে গিয়ে বহুদিন কোনো শিশু প্রজাপতি ধরেনি। অথচ এ বাড়ি কোনোদিন হিংসুটে দৈত্যের ছিলো না। সদর দরজার গায়ে লেখা নেই – অনধিকার প্রবেশ বা কুকুর হতে সাবধান…কোনো রকম পলেস্তারা ভাঙা দরিদ্রের ছাপ নেই রাজপ্রাসাদের গায়ে। অথচ দ্যাখো, ঘর থেকে দালান পেরিয়ে সদর দরজা বরাবর চলমান রাস্তার দিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ করে রেখেছি; আরও দ্যাখো, কেতাদস্তুর পোশাকে ছড়ি হাতে নিজেকে প্রস্তুত করে রেখেছি- নিশ্চিত কেউ একজন আসবে ! নাহ…অনেকদিন কেউ এ বাড়ির প্রশস্ত উঠোনে পা রাখেনি। চাঁদ ধরে কেউ কপালে টিপ দিয়ে যাইনি। অথচ সদর দরজা খোলা রাখা আছে। এখন যে কেউ প্রবেশ করে এই স্থাপত্যের প্রভু হতে পারে। …প্রবেশ অবাধ ।