ওঙ্কার ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্প থেকে বেরিয়ে ১০০ কিলোমিটারেরও বেশি পথ পেরিয়ে অসমে পৌঁছেছিল বাঘিনি। অবশেষে পশ্চিমবঙ্গ ও অসমের বন দফতরের যৌথ অভিযানে নিরাপদে তাকে উদ্ধার করা হয়েছে। এই অভিযানে সহযোগিতা করেছে বডোল্যান্ড টেরিটোরিয়াল রিজিয়নের (বিটিআর) বনকর্মী, স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ এবং এলাকার বাসিন্দারা।
বন দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, বাঘিনিটির পরিচিতি নম্বর বিটি১। ২০২৬ সালের ২ অক্টোবর তাকে বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের জঙ্গলে ছাড়া হয়েছিল। পরে সে রাজ্যের সীমানা পেরিয়ে অসমে প্রবেশ করে। একসময় বিটিআরের রাইমোনা জাতীয় উদ্যানেও পৌঁছে যায় বাঘিনিটি। গত ২৩ অক্টোবর থেকে তার গতিবিধি নতুন করে নজরে আসে বনকর্মীদের। বিভিন্ন জঙ্গল এলাকা অতিক্রম করে সে অসমের কোকরাঝাড় জেলার লোকালয়ের কাছাকাছি চলে আসে। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। একই সঙ্গে বাঘিনিটির সুরক্ষা নিয়েও চিন্তায় পড়েন বনকর্মীরা।
পরিস্থিতি সামাল দিতে পশ্চিমবঙ্গ ও বডোল্যান্ডের বন দফতর যৌথভাবে নজরদারি ও উদ্ধার অভিযান শুরু করে। সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয় জেলা প্রশাসন ও পুলিশ। স্থানীয় বাসিন্দারাও অভিযানে সাহায্য করেন। বাঘিনিটির অবস্থান ও গতিবিধির উপর নিয়মিত নজর রাখা হয়। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে শেষ পর্যন্ত তাকে নিরাপদে খাঁচাবন্দি করা সম্ভব হয়।
বনকর্তাদের মতে, এই অভিযান বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে আন্তঃরাজ্য সমন্বয়ের গুরুত্ব আরও একবার তুলে ধরেছে। প্রশাসনিক সীমানা পেরিয়ে বন্যপ্রাণীর চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা এবং মানুষ ও বন্যপ্রাণীর সংঘাতের আশঙ্কা কমাতে দুই রাজ্যের মধ্যে সহযোগিতা জরুরি। অসমের পরিবেশ ও বনমন্ত্রী জয়ন্ত মল্লবরুয়া অভিযানে যুক্ত সমস্ত দলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তাঁর মতে, এই সাফল্য দুই রাজ্যের বন দফতরের সমন্বিত উদ্যোগের উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। বাঘিনিটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য পশ্চিমবঙ্গ ও বডোল্যান্ডের বনকর্মীদের বিশেষভাবে প্রশংসা করেছেন মন্ত্রী।