নিজস্ব প্রতিনিধি, খড়গপুর: খড়গপুর-বালেশ্বর ১৬ নম্বর জাতীয় সড়কে হঠাৎই দেখা গেল প্রকৃতির এক চমকে দেওয়া দৃশ্য। আচমকা জাতীয় সড়কের উপর তৈরি হল ধুলোর বিশাল ঘূর্ণি। মুহূর্তের মধ্যেই সেই ঘূর্ণি ধুলো উড়িয়ে আকাশের দিকে উঠে গেল, আর ধুলোয় ঢেকে গেল গোটা এলাকা। এই ঘটনার ভিডিও ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে (ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি ওঙ্কার ডিজিটাল)। ঘটনাকে ঘিরে জাতীয় সড়ক সংলগ্ন এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তবে এই ঘটনায় কোনও ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের কথায়, দুপুরের দিকে আচমকাই সড়কের উপর ধুলোর একটা স্তম্ভ তৈরি হয়। প্রথমে ছোট থাকলেও কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে তা আরও বড় ও উঁচু হয়ে ওঠে। চারপাশের ধুলো, শুকনো পাতা টেনে নিয়ে ঘুরতে থাকে ওই ঘূর্ণি। জাতীয় সড়ক দিয়ে যাতায়াতকারী চালক ও পথচলতি মানুষজন অবাক হয়ে দাঁড়িয়ে পড়েন। অনেকেই মোবাইলে সেই দৃশ্য বন্দি করেন। কিছুক্ষণ তাণ্ডব চালিয়ে আচমকাই মিলিয়ে যায় ঘূর্ণিটি। হঠাৎ এই দৃশ্য দেখে বেশ কিছুটা স্তম্ভিত হয়ে পড়েন এলাকার মানুষ। অনেকেই ভেবেছিলেন বড় কোনও ঝড় আসছে।
কেন হয় এমন ধুলোর ঘূর্ণিঝড়? বিজ্ঞান কী বলছে?
বিজ্ঞানীদের মতে, খড়গপুরে দেখা যাওয়া এই ঘটনাটি আসলে টর্নেডো নয়, একে বলা হয় ‘ডাস্ট ডেভিল’ বা ‘ধুলো শয়তান’। সাধারণত শুষ্ক ও প্রচণ্ড গরমের দিনে এমন ঘটনা ঘটে। যখন মাটির উপরের বাতাস অত্যন্ত গরম হয়ে হালকা হয়ে যায়, তখন সেই গরম বাতাস দ্রুত উপরের দিকে উঠতে থাকে। উপরের ঠান্ডা ও ভারী বাতাস তখন সেই শূন্যস্থান পূরণ করতে নীচে নামতে চায়। এই ওঠা-নামার মাঝে বাতাসে যদি সামান্য বাঁক বা ঘূর্ণন তৈরি হয়, তখনই তৈরি হয় এই ঘূর্ণি।
অনেকটা জলের স্রোতে বালতির জল ঘোরালে যেমন ঘূর্ণি তৈরি হয়, ঠিক তেমনই বাতাসের মধ্যে এই ঘূর্ণি তৈরি হয়। খোলা মাঠ, জাতীয় সড়কের মতো কংক্রিটের গরম জায়গা বা ফাঁকা জমিতে সূর্যের তাপ বেশি পড়লে মাটি দ্রুত গরম হয়ে যায়। সেই গরম মাটির সংস্পর্শে আসা বাতাস হঠাৎ উপরে উঠে গিয়ে এই ধুলোর স্তম্ভ তৈরি করে। এই ঘূর্ণি সাধারণত কয়েক সেকেন্ড থেকে কয়েক মিনিট স্থায়ী হয় এবং কয়েক মিটার থেকে কয়েকশো মিটার পর্যন্ত উঁচু হতে পারে।
আসল টর্নেডোর সঙ্গে এর পার্থক্য হল, টর্নেডো তৈরি হয় শক্তিশালী বজ্রঝড়ের মেঘ থেকে, যা অনেক বেশি ধ্বংসাত্মক হয়। আর ডাস্ট ডেভিল তৈরি হয় পরিষ্কার আকাশের নিচে, মাটির গরম থেকে। সাধারণত এতে বড় ক্ষয়ক্ষতি হয় না, তবে কখনও কখনও এর গতিবেগ ঘণ্টায় ৭০ থেকে ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছে যেতে পারে। তখন হালকা টিনের চাল, ছোটখাটো জিনিস উড়িয়ে নিয়ে যেতে পারে। খড়গপুরের ক্ষেত্রে ঘূর্ণিটি মূলত রাস্তার ধুলোকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছিল বলেই বড় কোনও বিপদ ঘটেনি। আবহাওয়াবিদদের মতে, শীতের মুখে দিনের বেলায় তাপমাত্রা বেড়ে গেলে এবং বাতাস শুষ্ক থাকলে এমন ডাস্ট ডেভিল দেখা যাওয়া অস্বাভাবিক নয়।