নিজস্ব প্রতিনিধি, রামপুরহাট : রামপুরহাটের দশেরপল্লি সার্বজনীন দুর্গোৎসব কমিটিতে মহালয়ার ঘণ্টাধ্বনি থেকে শুরু করে দশমীর ঢাকের বাজনা পর্যন্ত দিনভর আনন্দ, ভক্তি আর উৎসবের আবহ বিরাজ করেছিল। তবে দশমীর সকাল থেকেই কমিটির সদস্য এবং এলাকার মহিলাদের মনে ভর করেছিল বিদায়ের সুর। মা দুর্গাকে বিদায় জানানো মানেই বছরের পর বছর ধরে চলা পুজোর উচ্ছ্বাসে ইতি টানা। তবুও, শোকের মাঝেই আনন্দের রঙ ছড়িয়ে পড়ল সিঁদুর খেলায়।
মা দুর্গার ঘট বিসর্জনের আগে থেকেই মহিলাদের মধ্যে শুরু হয়েছিল বিশেষ আয়োজন।শঙ্খধ্বনি, উলুধ্বনি আর ঢাকের কাঁসরের তালে তালে মহিলারা প্রথমে দেবীর চরণে সিঁদুর নিবেদন করেন। এরপর পরস্পরের কপালে, গালে ও সিঁথিতে সিঁদুর লাগিয়ে তাঁরা মাতৃমূর্তির আশীর্বাদ কামনা করেন। মুহূর্তেই লাল রঙে রঙিন হয়ে ওঠে চারদিক। যেন বিদায়ের বেদনাকে আড়াল করে মিলেমিশে যায় এক অমোঘ আনন্দে।

স্থানীয় মহিলা সদস্যা শতরুপা কোনার জানান, “মা’কে বিদায় জানানোর সময় চোখ ভিজে আসে। কিন্তু সিঁদুর খেলাই আমাদের মনকে কিছুটা হালকা করে দেয়। এতে বন্ধন গড়ে ওঠে মহিলাদের মধ্যে, আবার নতুন বছরের জন্য অপেক্ষার প্রতিশ্রুতিও থাকে।”
দশেরপল্লি সার্বজনীন দুর্গোৎসব কমিটির সভাপতি জানান, প্রতিবছরের মতো এবারও মহিলাদের অংশগ্রহণে সিঁদুর খেলা বিশেষ মাত্রা পেয়েছে। তিনি বলেন, “বিদায়বেলায় দুঃখ থাকলেও সিঁদুর খেলায় এক অন্যরকম আবেগ তৈরি হয়। মা যেন আমাদের আশীর্বাদ দিয়ে নতুন বছরের জন্য শক্তি জোগান।”
অবশেষে ঘট বিসর্জনের মধ্য দিয়ে সমাপ্তি ঘটে এবারের দুর্গোৎসবের। তবে সিঁদুর খেলায় মহিলাদের উচ্ছ্বাস যেন সামনে বছরের প্রতীক্ষাকে আরও উজ্জ্বল করে তুলল। বিদায়ের আবহকে সরিয়ে দিয়ে এক চিলতে আনন্দে ভেসে গেল দশেরপল্লি।
