নিজস্ব সংবাদদাতা: আধুনিক যুদ্ধ অস্ত্রের গণ্ডি পেরিয়ে ঢুকে পড়েছে অর্থনীতিতে। সেই প্রেক্ষাপটে দেশের ব্যাঙ্কিং পরিকাঠামোয় সাইবার আক্রমণ নিয়ে সতর্ক করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রবিবার ওড়িশা সফরে তিনি বলেন, ব্যাঙ্ক ব্যবস্থাকে সাইবার জঙ্গিদের নিশানা থেকে বাঁচাতে এখনই সুরক্ষা ব্যবস্থা ঢেলে সাজাতে হবে।
এদিন ১৬৯ কোটি টাকায় নির্মিত রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার নতুন ডেটা সেন্টার ও সাইবার সিকিউরিটি ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের উদ্বোধন করেন মোদী। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, এই দুটি প্রতিষ্ঠান শুধু ওড়িশা নয়, গোটা দেশের আর্থিক নিরাপত্তার জন্য মাইলফলক হয়ে থাকবে।
প্রধানমন্ত্রীর কথায়, “দেশকে দুর্বল করতে এখন আর সীমান্তে গোলাগুলির প্রয়োজন নেই, তার অর্থনীতিকে অচল করে দিলেই লক্ষ্য পূরণ হয়। ভারত যখন দ্রুত অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে উঠে আসছে, তখন ব্যাঙ্কিং নেটওয়ার্ককে সাইবার অপরাধীদের হাত থেকে রক্ষা করা জাতীয় নিরাপত্তারই অংশ।”
তিনি জানান, হ্যাকিং ও ডেটা চুরির কৌশল প্রতিদিন বদলাচ্ছে। পুরনো সফটওয়্যার ও গতানুগতিক প্রশিক্ষণ দিয়ে তা আটকানো সম্ভব নয়। তাই আরবিআইয়ের এই নতুন কেন্দ্র থেকে আধুনিক প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষিত জনবল তৈরিতে জোর দেওয়া হবে।
বক্তব্যের একাংশে পূর্বতন কংগ্রেস সরকারকে তীব্র আক্রমণ করেন মোদী। তাঁর দাবি, ইউপিএ আমলে ফোন ব্যাঙ্কিংয়ের মাধ্যমে প্রভাবশালী শিল্পপতিদের হাজার হাজার কোটি টাকা ঋণ পাইয়ে দেওয়া হত। তার জেরে অনাদায়ী ঋণের, এনপিএ, পাহাড় জমে ব্যাঙ্কগুলি দেউলিয়া হওয়ার মুখে পড়েছিল। ২০১৪-র পর সেই পরিস্থিতি থেকে ঘুরে দাঁড়িয়েছে ব্যাঙ্কিং খাত।
উল্লেখযোগ্য যে, প্রধানমন্ত্রী যখন ব্যাঙ্কিং নিরাপত্তা নিয়ে বার্তা দিচ্ছেন, তখনই স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ায় বড়সড় তথ্য ফাঁসের অভিযোগ সামনে এসেছে। সূত্রের দাবি, প্রায় ৩.৮ লক্ষ গ্রাহকের ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে ডার্ক ওয়েবে বিক্রি করা হয়েছে। এই খবরে গ্রাহকমহলে উদ্বেগ তৈরি হয়। যদিও এসবিআই কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গ্রাহকদের আমানত সম্পূর্ণ সুরক্ষিত রয়েছে, আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই।