ওঙ্কার ডেস্ক: মার্কিন কংগ্রেসের দুই কক্ষেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা ফিরে পেল ডেমোক্র্যাটরা। এর ফলে ওয়াশিংটনের ক্ষমতার সমীকরণে বড়সড় পরিবর্তন ঘটল। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শাসনকালের শেষ দুই বছরে তাঁর রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করার বাড়তি সুযোগ পেল বিরোধী শিবির। সিএনএন এবং সিএনবিসি—দুই সংবাদমাধ্যমই প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যাগরিষ্ঠতার পূর্বাভাস দিয়েছে। অন্যদিকে, সেনেটেও তাদের জয়ের ইঙ্গিত মিলেছে।
এই ফলাফল ট্রাম্পের দ্বিতীয় দফার শাসন নিয়ে দেশজুড়ে অসন্তোষের প্রতিফলন বলে মনে করা হচ্ছে। জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান খরচ, শুল্কনীতি এবং ইরানের সঙ্গে মার্কিন যুদ্ধ—এই বিষয়গুলি ভোটারদের মনোভাবে প্রভাব ফেলেছে। ইরানের সঙ্গে সংঘাতের জেরে জ্বালানির দামও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এর মধ্যে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা নেমে এসেছে প্রায় সর্বনিম্ন স্তরের কাছাকাছি।
প্রতিনিধি পরিষদে নিয়ন্ত্রণ হারানো রিপাবলিকানদের জন্য বড় ধাক্কা। এর ফলে ট্রাম্পের আইন প্রণয়নের পরিকল্পনা আটকে দেওয়ার ক্ষমতা পাবে ডেমোক্র্যাটরা। পাশাপাশি, তাঁর প্রশাসনের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তদন্ত শুরু করার সুযোগও তৈরি হবে। সেনেটে পরাজয়ের প্রভাব আরও গভীর হতে পারে। কারণ, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদে নিয়োগের ক্ষেত্রেও ট্রাম্পের ক্ষমতা বাধার মুখে পড়তে পারে। সেনেটে ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা হলে ট্রাম্পের শেষ দুই বছরের শাসনকাল নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার মুখে পড়বে। তাঁর রক্ষণশীল নীতির বিস্তার এবং সুপ্রিম কোর্টে রক্ষণশীল প্রভাব বজায় রাখার পরিকল্পনাও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
তবে ডেমোক্র্যাটদের কর্মসূচি আটকে দিতে নিজের ভেটো ক্ষমতা প্রয়োগের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ট্রাম্প। তাঁর মতে, এর ফলে ওয়াশিংটনে আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে অচলাবস্থা তৈরি হতে পারে। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ একটি লাল রিপাবলিকান টুপির ছবি পোস্ট করেছেন তিনি। সেই টুপিতে লেখা ছিল ‘ভেটো’।
এবারের নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসনের সবকটিতেই ভোট হয়েছে। সেনেটের ১০০টি আসনের মধ্যে লড়াই হয়েছে ৩৫টিতে। পাশাপাশি, ৩৬টি রাজ্যের গভর্নর পদেও নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে ডেমোক্র্যাটদের প্রতিনিধি পরিষদে মাত্র তিনটি আসন বাড়ানো এবং সেনেটে অন্তত চারটি আসনের নিট ব্যবধান তৈরি করা প্রয়োজন ছিল।
কেন্টাকি ও ইন্ডিয়ানায় প্রথম দফার ভোট গণনা শুরু হওয়ার সময়ই ডেমোক্র্যাটদের সম্ভাবনা নিয়ে আশা প্রকাশ করেন প্রতিনিধি পরিষদে দলের সংখ্যালঘু নেতা হাকিম জেফ্রিস। ওয়াশিংটনে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, দেশ একটি বড় রাজনৈতিক পরিবর্তনের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে রয়েছে। প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে ফিরতে চলেছে বলেও পূর্বাভাস দেন তিনি।