অর্পিতা মুখার্জী, কলকাতা: দলত্যাগের অভিযোগে সাংসদ পদ খারিজের মামলায় ফের সময় চেয়ে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে চিঠি দিলেন এনসিপিআই-এর সাংসদরা। মঙ্গলবারই ছিল জবাব দেওয়ার শেষ দিন। শেষ দিনেই ই-মেলে আরও সময় চাইলেন তাঁরা। এই নিয়ে পঞ্চমবার সময় চাইলেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, কাকলি ঘোষ দস্তিদাররা। ফলে মামলার নিষ্পত্তি নিয়ে নতুন করে জটিলতা তৈরি হল।
সূত্রের খবর, স্পিকার বর্তমানে দিল্লির বাইরে রয়েছেন। ফিরে এসে তিনি এই আবেদনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। লোকসভা সচিবালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এর আগেও একাধিকবার সময় বাড়ানোর আবেদন করেছেন এই সাংসদরা। এবার কী কারণে সময় চাওয়া হয়েছে, তার যৌক্তিকতা খতিয়ে দেখেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন স্পিকার।
প্রসঙ্গত, বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের পর তৃণমূলের সংসদীয় দলে ভাঙন ধরে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গ ছেড়ে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, কাকলি ঘোষ দস্তিদার, শতাব্দী রায় সহ ২০ জন সাংসদ ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া, অর্থাৎ এনসিপিআই-তে যোগ দেন। এনডিএ সরকারকে সমর্থনের কথাও জানান তাঁরা। সংসদে তাঁদের আসনও বদল হয়। তবে এখনও এনসিপিআই সাংসদ হিসেবে স্বীকৃতি পাননি তাঁরা।
এই ২০ জনের সাংসদ পদ খারিজের দাবিতে স্পিকারের কাছে আবেদন করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, তৃণমূলের প্রতীকে জিতে তাঁরা অন্য দলে গিয়েছেন, তাই সংবিধানের দশম তফসিল অনুযায়ী তাঁদের পদ খারিজ হওয়া উচিত। যদিও এনসিপিআই সাংসদদের দাবি, এটি বৈধ রাজনৈতিক সংযুক্তি, দলত্যাগ বিরোধী আইন এখানে প্রযোজ্য নয়।
এদিকে এই মামলা সুপ্রিম কোর্টেও বিচারাধীন। শীর্ষ আদালত সবপক্ষকে নোটিস পাঠিয়েছে। সুদীপ, কাকলি সহ ২০ জনকে এবং স্পিকারকেও নোটিস দেওয়া হয়েছে সিদ্ধান্ত কতদূর এগিয়েছে জানতে। সুপ্রিম কোর্ট দ্রুত নিষ্পত্তি চায়। এই অবস্থায় স্পিকার ফের সময় দেন কি না, সেটাই এখন দেখার।