ডায়াবেটিস শুধু রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়ায় না, দীর্ঘদিন নিয়ন্ত্রণে না থাকলে চোখের দৃষ্টিশক্তির ওপরও গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে। ডায়াবেটিসের কারণে চোখের রেটিনার ক্ষুদ্র রক্তনালিগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর ফলে ঝাপসা দেখা, চোখের সামনে কালো দাগ বা ভাসমান ছোপ দেখা, দৃষ্টিক্ষেত্রের কিছু অংশ অস্পষ্ট হওয়া এবং ধীরে ধীরে দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
ডায়াবেটিসজনিত চোখের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা হলো ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি। দীর্ঘদিন রক্তে শর্করা বেশি থাকলে রেটিনার রক্তনালিগুলো দুর্বল হয়ে রক্ত বা তরল লিক করতে পারে। গুরুতর অবস্থায় নতুন অস্বাভাবিক রক্তনালি তৈরি হয়ে চোখের ভেতরে রক্তক্ষরণ ঘটাতে পারে। এছাড়া ডায়াবেটিসে ম্যাকুলার এডিমা, ছানি এবং গ্লুকোমার ঝুঁকিও বেড়ে যেতে পারে।
তবে সময়মতো ব্যবস্থা নিলে এসব জটিলতার ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। প্রথম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হলো রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখা। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ গ্রহণ, সুষম খাবার খাওয়া, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম এবং নির্ধারিত সময়ে রক্তে শর্করা পরীক্ষা করা জরুরি। পাশাপাশি রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণেও নজর দিতে হবে।
ডায়াবেটিস রোগীদের নিয়মিত চোখ পরীক্ষা করানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেক সময় ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথির শুরুতে কোনো স্পষ্ট উপসর্গ থাকে না। তাই দৃষ্টিশক্তি স্বাভাবিক মনে হলেও চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত চোখের পরীক্ষা করা উচিত। প্রয়োজনে চিকিৎসক চোখের ড্রপ, লেজার চিকিৎসা, চোখের ভেতরে ইনজেকশন বা অন্যান্য চিকিৎসার পরামর্শ দিতে পারেন।
হঠাৎ দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া, চোখের সামনে অনেক নতুন কালো ছোপ বা আলোর ঝলক দেখা, পর্দার মতো কিছু চোখের সামনে নেমে আসা কিংবা তীব্র চোখের সমস্যা হলে দেরি না করে চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
মনে রাখতে হবে, ডায়াবেটিস থাকলেই দৃষ্টিশক্তি হারাতে হবে—এমন নয়। রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ, নিয়মিত চোখ পরীক্ষা এবং সময়মতো চিকিৎসা দৃষ্টিশক্তি সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই চোখে সমস্যা দেখা দেওয়ার অপেক্ষা না করে আজ থেকেই চোখের যত্ন ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণকে গুরুত্ব দিন।