ওঙ্কার ডেস্ক: রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের টানটান পরিস্থিতির মধ্যেই আচমকাই এক স্বল্পমেয়াদি যুদ্ধবিরতির ঘোষণা করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদামির পুতিন। অর্থডক্স ইস্টার উপলক্ষে ঘোষিত এই যুদ্ধবিরতি ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে যেমন আশার সঞ্চার হয়েছে, তেমনই সংশয়ও দানা বেঁধেছে।
ক্রেমলিন সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় ৩২ ঘণ্টার জন্য এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকবে। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী, শনিবার বিকেল থেকে শুরু হয়ে রবিবার গভীর রাত পর্যন্ত দুই পক্ষকে সামরিক অভিযান বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মূলত ধর্মীয় উৎসবের সময় মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে দাবি মস্কোর। অন্যদিকে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভালোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, কিয়েভ এই যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত। তবে একইসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেছেন, শুধুমাত্র অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি নয়, স্থায়ী শান্তির জন্য দীর্ঘমেয়াদি কূটনৈতিক সমাধান প্রয়োজন। ইউক্রেন প্রশাসনের মতে, বারবার এমন স্বল্পমেয়াদি যুদ্ধবিরতির ঘোষণা এলেও বাস্তবে সংঘর্ষ পুরোপুরি থামে না।
বাস্তব পরিস্থিতিও সেই আশঙ্কাকেই আরও জোরালো করছে। যুদ্ধবিরতির ঘোষণা হওয়ার আগেই ইউক্রেনের একাধিক অঞ্চলে, বিশেষ করে ওডেসা এলাকায় রুশ বাহিনীর ড্রোন হামলার খবর সামনে এসেছে। সেই হামলায় হতাহতের ঘটনাও ঘটে। ফলে যুদ্ধবিরতির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। কিয়েভের একাধিক কর্মকর্তা মনে করছেন, অতীতের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী এই ধরনের ঘোষণা অনেক সময়ই প্রতীকী হয়ে থাকে এবং মাটির বাস্তবতায় তার প্রতিফলন খুব কম দেখা যায়। এর আগে বিভিন্ন উৎসব বা বিশেষ উপলক্ষে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা হলেও, বহু ক্ষেত্রেই তা লঙ্ঘিত হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, এই উদ্যোগ মূলত আন্তর্জাতিক মহলের কাছে একটি ইতিবাচক বার্তা দেওয়ার কৌশল মাত্র। দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা এই যুদ্ধ ক্রমেই মানবিক সংকটকে গভীরতর করেছে। সাধারণ মানুষের প্রাণহানি, পরিকাঠামোর ধ্বংস এবং লক্ষ লক্ষ মানুষের বাস্তুচ্যুতি দেখতে গেলে বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল।