নিজস্ব সংবাদদাতা : দুর্গাপুরের জনসভা থেকে কার্যত বঙ্গ বিজেপির স্বঘোষিত ‘বেঙ্গল লাইন’-এই গলা চড়ালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। জয় শ্রীরাম নয়, জয় মা কালী, জয় মা দুর্গা বলে ভাষণ শুরু করলেন তিনি। বাংলার অস্মিতাকে তুলে ধরতে ভাষণের শুরুটাও বাংলাতে। বললেন, “বড়রা আমার প্রণাম নেবেন। ছোটরা ভালোবাসা”। বঙ্গ বিজেপির কুর্শিতে বসেই শমীক ভট্টাচার্য তাঁর প্ররম্ভিক বক্তব্যে যে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, মোদীর এদিনের কথায় তারই সমর্থন মিলল। যদিও, অনুপ্রবেশের নামে বাংলায় যে বাঙলি বিতাড়নের রাজনীতি শুরু হয়েছে সেখানে এর পক্ষেই সরব হয়েছে বিজেপি।
.২০১৯-এ এ রাজ্যে নির্বাচনের প্রচার থেকে বাংলার কোনো জনসভায় উঠলে শুরুতে বাংলায় বলা একরকম প্রথা করে নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু এবার তাঁর এই ভাষাগত আবেগ যেন ২৬শে মুখী। গত নির্বাচনে তৃণমূলের বহিরাগত ইস্যুকে আগে থেকেই নিস্প্রভ করে দিতে নির্ভর করতে চাইছেন বাঙালি সংস্কৃতিকে। তাই বক্তব্যের মাঝে মাঝে তিনি বাংলাকে ব্যবহার করলেন। আগামী নির্বাচনের কথা মাথায় রেখে দিয়ে গেলেন দলের শ্লোগান- ‘বিকশিত বাংলা মোদির গ্যারান্টি।’
এরপরই তিনি চলে আসেন তৃণমূল বিরোধিতায়। রাজ্যের দুর্নীতি, অনুন্নয়ন, আইনশৃঙ্খলার অবনতি ও তথাকথিত ‘গুন্ডা ট্যাক্স’ প্রসঙ্গে সরব হলেন মোদী। তাঁর অভিযোগ, “বাংলার সংস্কৃতির এত ঐতিহ্য থাকা সত্ত্বেও, তৃণমূল সরকারের শাসনে দুর্নীতিই দিশা দেখাচ্ছে। এই বাংলা তো এমন ছিল না। বাংলার যুবসমাজ শান্তি, কাজ, সুশাসন চায়।” তিনি আরও বভলেন, “এক সময় বাংলা দেশের বাণিজ্যে দিশা দেখাত। অথচ আজ এখানকার ছেলেমেয়েদের ছোট ছোট চাকরির জন্যও বাইরে যেতে হচ্ছে। তৃণমূল সরকার যত দিন থাকবে, তত দিন শিল্প আসবে না, কর্মসংস্থান হবে না।”
দুর্গাপুরের মঞ্চে দাঁড়িয়ে তিনি বললেন, বিজেপির বীজ রয়েছে বাংলার গভীরে। এর মধ্য দিয়ে মোদী তুলে আনতে চাইলেন শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জীর কথা। কথায় কথায় উঠে এল কাদম্বিনি গঙ্গোপাধ্যায়, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়, বিধানচন্দ্র রায়ের মতো বাঙালিদের সুখ্যাতি।
আসলে সভাপতি হওয়ার পর বঙ্গ বিজেপির গায়ে লেগে থাকা হিন্দি বলয়ের গন্ধ মুছে ফেলার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন শমীক ভট্টাচার্য। এতদিন ধরে রাজ্য রাজনীতিতে বিজেপি যে বাংলা বিরোধী এটা অনেকটাই প্রতিষ্ঠা করে ফেলেছে তৃণমূল। ভোটারদের মন থেকে এই নেতিবাচক মনোভাব দূর করতে বঙ্গ বিজেপি এখন বাঙালির অস্মিতাকে হাতিয়ার করতে চাইছে। ইতিমধ্যে রাজ্যের একটা বড় অংশ বিজেপিকে মনে করে অবাঙালি দল। তার সঙ্গে বিজেপি শাসিত রাজ্যে যে ভাবে বাংলায় কথা বললে ধরপাকড় হচ্ছে, বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী তকমা দেওয়া হচ্ছে, নানান ছুতোয় বাঙালিদের হেনস্থা করা হচ্ছে তাতে রাজনৈতিক ভাবে বিজেপি বাঙালিদের কাছে কোনঠাসা। এইসব কারণে একটা বড় অংশের বাঙালিদের কাছে বিজেপি সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণ গড়ে দিতে পেরেছে তৃণমূল। শুভেন্দু অধিকারীর উগ্র ভাষণে বাঙালিদের কাছে। এ ছাড়া বিজেপির এতদিনের রামনাম শ্লোগানে একাত্ম হতে পারেনি বাঙালিরা। ফলে বঙ্গ বিজেপি মনে করছে রাম নামে তৃণমূলকে হটানো যাবে না। তাই মোদীর গলায় উঠল, “জয় মা কালী, জয় মা দুর্গা”
কিন্তু উন্নয়নের প্রশ্নে এবারও হতাশ হল বাংলা। উৎসাহ পাওয়ার মতো তেমন কোনো আশার আলো জাগালেন না প্রধানমন্ত্রী। বললেন, তৃণমূল সরকার যত দিন থাকবে, তত দিন শিল্প আসবে না, কর্মসংস্থান হবে না।” শুধু জানালেন, দুর্গাপুর স্টিল প্ল্যান্ট-সহ একাধিক শিল্প ক্ষেত্রে আধুনিকীকরণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান বাড়ানো হবে।
