ওঙ্কার ডেস্ক: ‘তুমি যাকে স্বার্থপর বলো, আমি বলি আত্মসম্মান’, এই ক্যাপশনের মধ্যেই যেন ফুটে উঠেছে দুই প্রজন্মের দৃষ্টিভঙ্গির এক অদৃশ্য ফারাক। কিন্তু এই শব্দের আগমনে রঞ্জিত মল্লিক আর কোয়েল মল্লিক কেন? উত্তর মিলবে শীঘ্রই। প্রায় এক দশক পর ফের বড়পর্দায় একসঙ্গে ধরা দিতে চলেছেন মল্লিকবাড়ির দুই প্রজন্ম। বুধবার দুপুরেই প্রকাশ্যে এল তাঁদের নতুন সিনেমা ‘স্বার্থপর’-এর প্রথম ঝলক।
একের পর এক ছবিতে অভিনয় করে রঞ্জিত মল্লিক দীর্ঘদিন ধরে বাংলা সিনেমার স্তম্ভ হয়ে থেকেছেন। তাঁর মিষ্টি অথচ দৃঢ় ব্যক্তিত্ব দর্শকের কাছে এক অন্য জায়গা তৈরি করেছে। সেই ধারা বজায় রেখে মেয়েও সমান জনপ্রিয়, কোয়েল মল্লিক। তাঁর সাবলীল অভিনয়, মিষ্টি ব্যবহার তাঁকে বানিয়েছে টলিউডের অন্যতম অভিনেত্রী। ‘নাটের গুরু’-ছবিতেই প্রথম একসঙ্গে ধরা দিয়েছিলেন বাবা-মেয়ে। সেই ছবিই ছিল কোয়েলের প্রথম ছবি। বহু বছর পরে আবারও তাঁদের দেখা যাবে একই ফ্রেমে। তবে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—এবার তাঁরা কোন চরিত্রে?
ছবির পোস্টারেই ইঙ্গিত লুকিয়ে আছে। প্রদীপ, পুজোর সামগ্রী, দুটি খালি আসন আর দেয়ালের দু’দিকে হাতের ছাপ, সব মিলিয়ে যেন ভেসে উঠেছে প্রজন্মের দূরত্ব। সঙ্গে প্রশ্নচিহ্নও তবে দূরত্ব কেন? দর্শকরা এখনই উত্তর খুঁজতে ব্যস্ত। এই ছবিতে রয়েছেন কৌশিক সেনও। পরিচালনায় অন্নপূর্ণা বসু, সুরের দায়িত্বে জিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। ইতিমধ্যেই ইমন চক্রবর্তীর গলায় একটি গান রেকর্ডও হয়ে গিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। পুজোর আবহেই প্রকাশ্যে আসবে ছবির ফার্স্ট লুক।
বাস্তব জীবনের নানা হাসি-ঠাট্টা এবার বড়পর্দাতে দেখা যাবে। শোনা যাচ্ছে, এই দীপাবলিই বাবা-মেয়ের! কারণ জামাই নিসপাল সিং রানে প্রযোজনা করছেন তাঁদের নিয়ে। গুঞ্জন আরও— রঞ্জিত মল্লিকের চরিত্রই রয়েছে নতুন চমক। সম্প্রতি পুজোর ছবিমুক্তি নিয়ে এক বৈঠকে রানে জানিয়েছেন, দীপাবলিতে তাঁর ছবি আসতে পারে। পরিচালনায় অন্নপূর্ণা বসু, আর কাস্টে রঞ্জিত-কোয়েলের পাশাপাশি থাকছেন কৌশিক সেন, অনির্বাণ চক্রবর্তী, ইন্দ্রজিৎ চক্রবর্তী।
সদ্যই শেষ হয়েছে ছবির শুটিং। জোরকদমে চলছে পোস্ট-প্রোডাকশনের কাজ। তবে বাবা-মেয়ের চরিত্রে ধরা দেবেন কি না, তা নিয়ে পরিচালকের মুখে কুলুপ। তবে গুঞ্জন বলছে, এই গল্প নাকি আসলে দাদা-বোনের সম্পর্ককে ঘিরে। আধুনিক যুগে দাদা-বোনের সম্পর্কের পরিবর্তন, তার টানাপোড়েন আর আবেগকে ফুটিয়ে তুলতেই পরিচালকের এই প্রয়াস। ছবিতে কৌশিক-কোয়েল দাদা-বোনের ভূমিকায়। দীপাবলি বা ভাইফোঁটার মতো উদযাপন এই গল্পের প্রেক্ষাপট। সিনেমার শেষে উত্তর যাই হোক না কেন, দর্শকের মনে থেকে যাবে একটাই প্রশ্ন—আসলে কি আমরা স্বার্থপর, না কি কেবল আত্মসম্মান বাঁচাতে চাই?
