ওঙ্কার ডেস্ক: অবশেষে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে পাকিস্তান এবং আফগানিস্তান। মধ্যস্থতায় এগিয়ে এসেছে চিন। চিনের উদ্যোগে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনা প্রশমনের লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ শান্তি আলোচনা শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তে সংঘর্ষ, জঙ্গি হামলা এবং পারস্পরিক অভিযোগের জেরে দুই দেশের সম্পর্ক তলানিতে ঠেকেছিল। সেই প্রেক্ষাপটে বেজিং কূটনৈতিকভাবে সক্রিয় হয়ে উভয় পক্ষকে আলোচনার টেবিলে বসাতে সক্ষম হয়েছে।
জানা গিয়েছে, চিনের উরুমকিতে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা প্রতিনিধিরা অংশ নিয়েছেন। মূল লক্ষ্য হল সীমান্তে চলতে থাকা সংঘর্ষ বন্ধ করা, পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা এবং দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠার পথ খুঁজে বের করা। বৈঠকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা, সীমান্তে নজরদারি বাড়ানো এবং উগ্রপন্থী কার্যকলাপ দমন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে সূত্রের খবর।
গত কয়েক মাসে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। পাকিস্তানের অভিযোগ, আফগানিস্তানের মাটিতে আশ্রয় নিয়ে তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তানের জঙ্গিরা বারবার সীমান্ত পেরিয়ে হামলা চালাচ্ছে। ইসলামাবাদ একাধিকবার এই বিষয়ে কড়া প্রতিবাদ জানালেও কাবুল সেই অভিযোগ নস্যাৎ করেছে। আফগানিস্তানের তরফে দাবি করা হয়েছে, তাদের ভূখণ্ড কোনও দেশের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপের জন্য ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না, তবে পাকিস্তানের অভিযোগ তাদের অভ্যন্তরীণ সমস্যাকে ঢাকতে তোলা হচ্ছে।
পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে যখন পাকিস্তান সীমান্ত পেরিয়ে আফগানিস্তানের ভেতরে এক হাসপাতালে বিমান হামলা চালায় বলে অভিযোগ ওঠে। ওই হামলায় সাধারণ মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলেও দাবি করা হয়। যদিও পাকিস্তান জানায়, তারা শুধুমাত্র জঙ্গি ঘাঁটিগুলিকেই লক্ষ্য করে অভিযান চালিয়েছে। এই ঘটনায় দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক আরও তিক্ত হয়ে ওঠে এবং সীমান্তে সংঘর্ষ বাড়তে থাকে।
এই পরিস্থিতিতে চিন মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় সামনে আসে। দক্ষিণ এশিয়ায় স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং নিজের কৌশলগত স্বার্থ রক্ষা করতেই বেজিং এই উদ্যোগ নিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। চিনের তরফে জানানো হয়েছে, তারা উভয় দেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রেখে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এবং আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ খুঁজতে উৎসাহ দিচ্ছে।
তবে আলোচনা শুরু হলেও মাটিতে পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি শান্ত নয়। সীমান্তে মাঝে মধ্যেই ছোটখাটো সংঘর্ষ এবং গোলাগুলির খবর সামনে এসেছে। ফলে এই আলোচনার ফল কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে। দীর্ঘদিনের সংঘাতের আবহে এই শান্তি আলোচনা এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হলেও, এর সাফল্য নির্ভর করবে উভয় দেশের সদিচ্ছা এবং বাস্তবায়নের ওপর।