ওঙ্কার ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান অস্থিরতার আবহে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে নতুন করে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দখলে নিতে বিশেষ সামরিক অভিযান চালানোর সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রশাসনের অন্দরে এ নিয়ে জোরদার আলোচনা চলছে বলে জানা গিয়েছে।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, প্রয়োজনে মার্কিন সেনাবাহিনীর এলিট স্পেশাল ফোর্সের বিশেষ একটি কমান্ডো ট্র্যুপকে ব্যবহার করার পরিকল্পনাও বিবেচনায় রাখা হয়েছে। যদিও এখনও পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি, তবে পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে সবরকম বিকল্প খোলা রাখা হচ্ছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের কাছে যে পরিমাণ উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত রয়েছে, তা দ্রুত অস্ত্র তৈরির পর্যায়ে পৌঁছতে পারে। এই আশঙ্কাই আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। ইরানের একাধিক পারমাণবিক স্থাপনা অত্যন্ত সুরক্ষিত এবং অনেক ক্ষেত্রেই মাটির গভীরে অবস্থিত। ফলে সরাসরি সামরিক অভিযান চালিয়ে ওই ইউরেনিয়াম দখল করা বা সরিয়ে আনা অত্যন্ত কঠিন এবং ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। গত কিছু সময়ে মার্কিন ও ইজরায়েল যৌথভাবে ইরানের বিভিন্ন স্থাপনার উপর আঘাত হানলেও, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই উপরের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভূগর্ভস্থ মজুত অক্ষত থাকার সম্ভাবনাই বেশি বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে এই ধরনের পদক্ষেপের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বড় ধরনের কূটনৈতিক এবং সামরিক ঝুঁকি। সরাসরি ইরানের ভূখণ্ডে অভিযান চালানো হলে সংঘাত আরও তীব্র আকার নিতে পারে, যা শুধু ইরান-এর সঙ্গে নয়, গোটা মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে অস্থিরতা বাড়িয়ে দিতে পারে। এর প্রভাব আন্তর্জাতিক রাজনীতি এবং জ্বালানি বাজারেও পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এছাড়া ইউরেনিয়াম দখলের পর সেটি কীভাবে নিরাপদে সরানো বা নিষ্ক্রিয় করা হবে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। কিছু ক্ষেত্রে ইউরেনিয়াম অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে, আবার কোথাও সেটিকে সেখানেই ‘ডাইলিউট’ করার কথাও ভাবা হচ্ছে। সামরিক বিকল্পের পাশাপাশি কূটনৈতিক সমাধানের পথও খোলা রাখার উপর জোর দিচ্ছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। তবে যে কোনও সিদ্ধান্তই আগামী দিনে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।