ওঙ্কার ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার আবহে নতুন সামরিক কৌশল গ্রহণ করল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে এবার সমুদ্রপথে মানববিহীন ড্রোন বোট মোতায়েন করেছে তারা। এই ড্রোন বোট গুলি হরমুজ প্রনালীর আশেপাশে মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে তৈরি এই ড্রোন বোটগুলি সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করতে সক্ষম এবং যুদ্ধক্ষেত্রে নজরদারি ও গোয়েন্দা তৎপরতায় খুবই অ্যাডভান্স। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের প্রেক্ষিতে এই ড্রোন অবতরণ যুদ্ধ পরিস্থিতিতে আরও উদ্বেগ বাড়িয়ে দিচ্ছে।
জানা গয়েছে, ‘গ্লোবাল অটোনোমাস রিকনিসান্স ক্রাফ্ট’ বা সংক্ষেপে গার্ক নামে পরিচিত এই ড্রোন বোটগুলি মূলত সমুদ্রপথে টহল, তথ্য সংগ্রহ এবং শত্রুপক্ষের গতিবিধির উপর নজরদারি চালানোর জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে। দীর্ঘ সময় ধরে কোনও মানব হস্তক্ষেপ ছাড়াই এগুলি সমুদ্রে অবস্থান করতে পারে, যা যুদ্ধক্ষেত্রে একটি বড় সুবিধা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রয়োজনে এই ড্রোনগুলি আক্রমণাত্মক ভূমিকাও নিতে পারে বলে সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে।
মার্কিন প্রতিরক্ষা সূত্রে জানা গিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ, বিশেষ করে স্ট্রেইট অফ হরমুজ সংলগ্ন অঞ্চলে এই ড্রোন বোটগুলি মোতায়েন করা হয়েছে। এই অঞ্চলটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের তরফে একাধিকবার এই অঞ্চলে জাহাজ চলাচলে বাধা সৃষ্টি ও উত্তেজনা বাড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। সেই প্রেক্ষাপটেই নিরাপত্তা জোরদার করতে এই পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।
এই ড্রোন বোট ব্যবহারের মাধ্যমে মার্কিন সেনাবাহিনী একদিকে যেমন তাদের সেনাদের ঝুঁকি কমাতে পারছে, অন্যদিকে তুলনামূলকভাবে কম খরচে দীর্ঘমেয়াদি নজরদারি চালানো সম্ভব হচ্ছে। এদিকে, ইরানও নিজেদের সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করতে ড্রোন ও নৌ-ক্ষমতা বাড়ানোর দিকে জোর দিচ্ছে। ফলে দুই দেশের মধ্যে প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হয়ে উঠছে।
সমগ্র ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে এমন স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র ব্যবহারের ফলে যুদ্ধের ধরন দ্রুত বদলে যাচ্ছে এবং এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব কী হতে পারে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে বিভিন্ন মহলে। প্রায় চার সপ্তাহ ধরে চলা এই যুদ্ধ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে সেই দিকে নজর বিশ্ব রাজনৈতিক মহলের।