ওঙ্কার ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ক্রমশ তীব্রতর হয়ে উঠছে। সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে ইরান তাদের প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি এক নতুন স্তরে নিয়ে গিয়েছে বলে আন্তর্জাতিক মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। ইরানের সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সম্ভাব্য মার্কিন স্থল আক্রমণের আশঙ্কায় ইরান প্রায় ১০ লক্ষ যোদ্ধাকে প্রস্তুত রেখেছে। এই বিশাল বাহিনীর মধ্যে রয়েছে দেশের নিয়মিত সেনাবাহিনী, আধাসামরিক সংগঠন এবং বিশেষভাবে প্রভাবশালী ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস-এর সদস্যরা। পাশাপাশি, দেশের অভ্যন্তরে থাকা যুব সমাজ, স্বেচ্ছাসেবী মিলিশিয়া বাহিনীও এই প্রস্তুতির অংশ হিসেবে সক্রিয় করা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।
সম্প্রতি আমেরিকা জানিয়েছিল তারা পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ থামাতে বিপুল সেনা বাহিনী পাঠাবে। এবার ইরানের এই পদক্ষেপ সেই দাবির প্রেক্ষিতে নেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। ইরানের এই বিপুল সেনা মোতায়েন ঘীরে ইতিমধ্যেই জোর জল্পনা শুরু হয়ে গিয়েছে আন্তর্জানিতক রাজনৈতিক মহলে। সূত্রের খবর অনুযায়ী দেশের যুব সমাজ এই সেনা বাহিনিতে নিযুক্ত হতে আগ্রাহী। প্রসঙ্গত গত বছরের ডিসেম্বরে এই যুব সমাজই খামেনিইর বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করেছিল। এখন বহিরাগত শক্তির সামনে দেশের যুব সমাজই এগিয়ে আসছে দেশের স্বার্থ রক্ষার জন্য।
ইরান বর্তমানে গোটা বিশ্বকে বার্তা দিচ্ছে যে, কোনও রকম বহিরাগত আক্রমণের জবাব তারা কড়া হাতে দেবে। বিশেষ করে স্থলযুদ্ধের ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরোধ গড়ে তোলার কৌশল নেওয়া হয়েছে। দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে প্রতিরক্ষা ঘাঁটি শক্তিশালী করা হয়েছে এবং যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে দ্রুত মোতায়েনের জন্য বাহিনীকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
এদিকে, কৌশলগত দিক থেকেও ইরান নিজেদের অবস্থান আরও মজবুত করতে চাইছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালী নিয়ন্ত্রণের প্রশ্নে তারা কড়া বার্তা দিয়েছে। এই প্রণালী দিয়ে বিশ্বের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ তেল পরিবহন হয়, ফলে এখানে কোনও অস্থিরতা তৈরি হলে তার প্রভাব পড়তে পারে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রও পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখছে। মধ্যপ্রাচ্যে তাদের সামরিক উপস্থিতি আরও জোরদার করা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন, যুদ্ধবিমান প্রস্তুত রাখা এবং নৌবাহিনীর সক্রিয়তা স্পষ্ট করে সংঘাতের প্রস্তুতিতে তারাও পিছিয়ে নেই তেহরান।
বর্তমান পরিস্থিতিতে কূটনৈতিক স্তরেও তৎপরতা চলছে। বিভিন্ন দেশ মধ্যস্থতার চেষ্টা করলেও এখনও পর্যন্ত দুই পক্ষের অবস্থানে বিশেষ পরিবর্তন দেখা যায়নি। ফলে আন্তর্জাতিক মহলের উদ্বেগ ক্রমশ বাড়ছে। ইরানের বিপুল সংখ্যক যোদ্ধা প্রস্তুতির খবর পরিস্থিতির গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে তুলেছে।