ওঙ্কার ডেস্ক: মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সোমবার সাংবাদিকদের সামনে দাবি করেন সই কাণ্ডে তৃণমূল বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহা স্পিকারের কাছে অভিযোগ জানিয়েছিলেন। রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধানের এই মন্তব্যের পর জোড়াফুল শিবির দুই বিধায়ককে দল থেকে বহিষ্কার করল। ফলে এই দুই জনকে বিধানসভায় দলহীন বিধায়ক হিসেবে থাকতে হবে।
এর আগে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় দলহীন সাংসদ হিসেবে ভূমিকা পালন করেছেন। ২০১৪ সালে সিপিএম তাঁকে রাজ্যসভায় সাংসদ করে পাঠিয়েছিল। ২০২০ সাল পর্যন্ত মেয়াদ থাকলেও ২০১৭ সালে তাঁকে বহিষ্কার করে সিপিএম। ঋতব্রতের বিরুদ্ধে গুরুতর সব অভিযোগ উঠেছিল। সেই সময় রাজ্যসভায় দলহীন সাংসদ হিসাবে তিন বছর দায়িত্ব পালন করেছেন। পরে তৃণমূলের টিকিটে দেড় বছরের জন্য রাজ্যসভায় গিয়েছিলেন তিনি। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঋতব্রতকে প্রার্থী করেন। দলের সুপ্রিমো হেরে গেলেও নিজের আসন রক্ষা করেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। উলুবেড়িয়া পূর্ব কেন্দ্রে জয়ী হন তিনি। এন্টালি বিধানসভা কেন্দ্রে নির্বাচিত হন সন্দীপন।
বিধানসভার সই জাল-কাণ্ডে সোমবার দুপুরে সাংবাদিক বৈঠক করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, দুই তৃণমূল বিধায়কের অভিযোগ পেয়ে বিধানসভার সচিবালয় হেয়ার স্ট্রিট থানায় অভিযোগ দায়ের করে। বিষয়টি তিনি জানার পর সিআইডি-কে তদন্তভার দেন। শুভেন্দুর সাংবাদিক বৈঠক শেষ হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যে দুজনকে বহিষ্কার করা হয়। কী এই সই জাল কাণ্ড? বিধানসভায় শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা, নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় ও অসীমা পাত্রকে উপদলনেতা এবং ফিরহাদ হাকিমকে মুখ্যসচেতক করার কথা জানানো হয় তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে। সেই মর্মে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বাক্ষরিত একটি চিঠি পাঠানো হয় বিধানসভায়। কিন্তু তা গ্রহণ করেননি স্পিকার। বিধানসভা প্রশাসন অভিষেকের চিঠি প্রত্যাখ্যান করলে কালীঘাটে ফের পরিষদীয় দলের বৈঠক হয়। সেই বৈঠকের সিদ্ধান্তে স্বাক্ষর করানো হয় বিধায়কদের। কিন্তু একাধিক বিধায়ক দাবি করেন তাঁরা বৈঠকে ছিলেন না তাই সই করেননি। অথচ নথিতে তাঁদের সই ছিল যা নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়।