ওঙ্কার ডেস্ক: চলতি মাসের ১৮ তারিখে সিঙ্গুরের মাটিতে দাঁড়িয়ে রাজ্যের শাসক দলের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সিঙ্গুরের বর্তমান অচলাবস্থার জন্য তৃণমূলকেই দায়ী করেছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী দাবী করেন বাংলার শাসক দলের পরিবর্তন না হলে রাজ্যের উন্নয়ন হবে না। বাংলার পরিবর্তনের দরকার বলে ব্যাপক সমালোচনা করেন মোদী। এবার সেই সিঙ্গুরেই সভা করছেন রাজ্য মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সুত্রের খবর অনুযায়ী, সিঙ্গুরের জন্য কোটি কোটি টাকার প্রকল্প নিয়ে যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী।
সিঙ্গুরকে কেন্দ্র করে আবারও রাজ্য রাজনীতিতে তৎপরতা বাড়তে চলেছে। আগামী ২৮ জানুয়ারি সিঙ্গুর সফরে যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রশাসনিক সভা থেকে তিনি একটি বড় ঘোষণা করতে পারেন বলে নবান্ন ও তৃণমূল সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে। এই ঘোষণাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই হুগলি জেলা জুড়ে রাজনৈতিক কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
সূত্রের খবর, মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণার মূল বিষয় হতে চলেছে রাজ্যের আবাসন প্রকল্প। দীর্ঘদিন ধরে যাঁরা নিজেদের বাড়ির স্বপ্ন দেখছেন, তাঁদের জন্য আর্থিক সহায়তার প্রথম কিস্তির টাকা প্রদান শুরু হতে পারে এই সভা থেকেই। রাজ্য সরকার পরিকল্পনা করেছে বিপুল সংখ্যক পরিবারকে এই প্রকল্পের আওতায় আনার। এককালীন অর্থ সাহায্যের মাধ্যমে উপভোক্তারা নিজেদের ঘর নির্মাণের সুযোগ পাবেন। অর্থ সরাসরি উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হবে বলে জানা যাচ্ছে।
সিঙ্গুরকে এই ঘোষণার জন্য বেছে নেওয়াটাও বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। সিঙ্গুর আন্দোলন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। জমি অধিগ্রহণ বিরোধী আন্দোলনের মাধ্যমেই রাজ্যের রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের সূচনা হয়েছিল এই এলাকা থেকে। সেই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটকে সামনে রেখেই ফের সিঙ্গুরের মাটি থেকে জনমুখী প্রকল্পের বার্তা দিতে চাইছেন মুখ্যমন্ত্রী, এমনটাই মত রাজনৈতিক মহলের একাংশের।
এই কর্মসূচিকে ঘিরে প্রশাসনিক প্রস্তুতিও তুঙ্গে। সভাস্থল পরিদর্শন থেকে শুরু করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। দলীয় স্তরেও ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে। তৃণমূল কংগ্রেসের স্থানীয় নেতৃত্বের দাবি, এই ঘোষণার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের জীবনে সরাসরি প্রভাব পড়বে এবং রাজ্যের উন্নয়নমূলক রাজনীতির বার্তা আরও একবার স্পষ্ট হবে। মুখ্যমন্ত্রীর সিঙ্গুর সফর এবং সম্ভাব্য ঘোষণার দিকে তাকিয়ে রয়েছে রাজ্য রাজনীতি। আবাসন প্রকল্পের এই পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে তা রাজ্যের লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবনে নতুন আশার আলো জ্বালাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
