ওঙ্কার ডেস্ক: মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পদ্ধতি বদলের আবেদন খারিজ করল সুপ্রিম কোর্ট। ফলে দেশে আপাতত ফাঁসির মাধ্যমেই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হবে।মঙ্গলবার বিচারপতি বিক্রম নাথ এবং বিচারপতি সন্দীপ মেহতার বেঞ্চ এই রায় দিয়েছে।
সিনিয়র আইনজীবী ঋষি মালহোত্রা শীর্ষ আদালতে জনস্বার্থ মামলা করেছিলেন। সেখানে ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৫৪(৫) ধারার সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। ওই ধারায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে ফাঁসিতে ঝোলানোর বিধান রয়েছে। আবেদনকারীর দাবি ছিল, ফাঁসির বদলে অন্য পদ্ধতি বিবেচনা করা হোক।প্রাণঘাতী ইঞ্জেকশন, গুলি, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট করা এবং গ্যাস চেম্বারের মতো পদ্ধতির কথা আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল।
আবেদনকারীর যুক্তি ছিল, ফাঁসির ক্ষেত্রে মৃত্যুর প্রক্রিয়া দীর্ঘ হতে পারে। এতে দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে শারীরিক যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। পিটিশনে দাবি করা হয়, ফাঁসির পর মৃত্যু নিশ্চিত হতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে। তুলনায় প্রাণঘাতী ইঞ্জেকশনে সময় কম লাগতে পারে।
মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ক্ষেত্রে কম যন্ত্রণা নিশ্চিত করার বিষয়ে আন্তর্জাতিক নীতির কথাও আদালতে তুলে ধরা হয়। সংবিধানের ২১ নম্বর অনুচ্ছেদের প্রসঙ্গও মামলায় উঠে আসে। আবেদনকারীর দাবি ছিল, মর্যাদাপূর্ণ মৃত্যুর পদ্ধতিও মৌলিক অধিকারের অংশ হওয়া উচিত। ফাঁসির বিধানকে অসাংবিধানিক এবং বৈষম্যমূলক ঘোষণার আবেদনও করেছিলেন মামলাকারী। তবে সুপ্রিম কোর্ট বিকল্প পদ্ধতি নিয়ে ভবিষ্যতের সম্ভাবনা পুরোপুরি বন্ধ করেনি। নতুন বৈজ্ঞানিক বা চিকিৎসাবিজ্ঞানের তথ্য পাওয়া গেলে বিষয়টি ফের পর্যালোচনা করা যেতে পারে বলে সর্বোচ্চ আদালত জানিয়েছে।