ওঙ্কার ডেস্ক: সরকারি কর্মচারীদের পদোন্নতি নিয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ রায় দিল তেলেঙ্গানা হাই কোর্ট, যেখানে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে কোনও কর্মচারীকে তাঁর ইচ্ছার বিরুদ্ধে পদোন্নতি গ্রহণে বাধ্য করা যায় না। এই রায়কে প্রশাসনিক কাঠামোয় কর্মচারীদের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও অধিকারের স্বীকৃতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ঘটনাটি সামনে আসে এক চিকিৎসকের মামলার সূত্রে। তাঁকে একটি সরকারি মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ব্যক্তিগত ও পেশাগত কারণ দেখিয়ে তিনি সেই পদ গ্রহণ করতে অনীহা প্রকাশ করেন এবং পদোন্নতি প্রত্যাখ্যান করেন। এরপর বিষয়টি আদালতে গড়ায়।
প্রথমে একক বেঞ্চে এই আবেদন খারিজ হয়ে যায়। সেখানে জনস্বার্থের কথা উল্লেখ করে বলা হয়, গুরুত্বপূর্ণ পদে শূন্যতা থাকলে তা পূরণ করা প্রয়োজন এবং সেই কারণে পদোন্নতি গ্রহণ করা উচিত। তবে পরবর্তীতে ডিভিশন বেঞ্চে আপিল করা হলে মামলার মোড় ঘুরে যায়।
ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট করে জানায়, সংশ্লিষ্ট পরিষেবা বিধি অনুযায়ী কোনও কর্মচারীর পদোন্নতি প্রত্যাখ্যান করার অধিকার রয়েছে। যদি কোনও কর্মী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পদোন্নতি নিতে না চান, তবে তিনি তা নাও গ্রহণ করতে পারেন। এর ফলে সর্বোচ্চ যা হতে পারে, তা হল সেই নির্দিষ্ট সময়ের জন্য তিনি পদোন্নতির সুযোগ হারাবেন। এর বাইরে তাঁকে কোনও শাস্তিমূলক ব্যবস্থার মুখে পড়তে হবে না। আদালত আরও জানায়, পরিষেবা বিধিতে কোথাও বাধ্যতামূলকভাবে পদোন্নতি গ্রহণের কথা বলা হয়নি। ফলে “জনস্বার্থ”-এর যুক্তি দেখিয়ে কোনও কর্মচারীকে জোর করা আইনসঙ্গত নয়। এই ধরনের চাপ কর্মচারীর ব্যক্তিগত স্বাধীনতার পরিপন্থী বলেও মন্তব্য করা হয়েছে।