ওঙ্কার ডেস্ক: রাজ্যের বিধানসভা এবং দেশের লোকসভায় মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন আসন সংরক্ষণ কার্যকর করতে সংবিধান সংশোধনী বিল লোকসভায় পেশ হয়েছে বৃহস্পতিবার। বিরোধীরা সংরক্ষণের পক্ষে থাকলেও বিলটি যে ভাবে পাশ করানোর চেষ্টা চলছে তার বিরুদ্ধে সরব। ১৬ এপ্রিল বিলটি পেশ হওয়ার পর শুক্রবার ভোটাভুটি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই বৃহস্পতিবার মহিলাদের আসন সংরক্ষণ সংক্রান্ত পুরনো আইন কার্যকর করে দিল মোদী সরকার।
বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় আইন মন্ত্রক বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার অর্থাৎ ১৬ এপ্রিল থেকেই ১০৬তম সংবিধান সংশোধনী আইন কার্যকর হয়ে যাচ্ছে। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে মহিলা সংরক্ষণ সংক্রান্ত ১০৬তম সংবিধান সংশোধনী বিল পাশ করিয়েছিল কেন্দ্র। লোকসভা এবং রাজ্যসভায় তা পাশ হয়ে যায়। অনুমোদন দেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুও। ফলে সেটি আইনে পরিণত হয়। তবে আইন হয়ে গেলেও কেন্দ্র তা এতদিন কার্যকর করেনি। ওই আইনের ১(২) ধারা অনুযায়ী কেন্দ্র সরকার গেজেট বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে ওই আইন লাগু হওয়ার দিন নির্ধারণ করবে। বৃহস্পতিবার সেই ক্ষমতা প্রয়োগ করে কেন্দ্র জানিয়ে দিল, ১৬ এপ্রিল থেকেই এটি কার্যকর হবে।
তবে চর্চা শুরু হয়েছে, সংশোধনী পাশ হওয়া নিয়ে সংসদে আলোচনা চলার মাঝেই কেন পুরনো আইন কার্যকর করা হল? রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, কোনও আইন কার্যকর না থাকলে তার প্রস্তাবিত সংশোধনী কী ভাবে বাস্তবায়ন করা হবে? আর সে কারণেই এটি কার্যকর করা হয়েছে বলে মত অনেকের। তবে বিশদে কিছু জানানো হয়নি সরকারের তরফে। উল্লেখ্য, মহিলাদের সংরক্ষণের জন্য বিলের পোশাকি নাম ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’। ২০২৩ সালে সংসদে বিলটি পাশ হয়েছিল। এতে বলা হয়েছিল জনগণনার পরে সংসদের আসন পুনর্বিন্যাস করা হবে। তারপর সেই আসনের ৩৩ শতাংশ সংরক্ষিত রাখা হবে মহিলাদের জন্য। কিন্তু বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকার জনগণনার জন্য অপেক্ষা না করে আগেভাগে অর্থাৎ ২০১১ সালের জনগণনার ভিত্তিতে আসন পুনর্বিন্যাস করতে চাইছে। বিরোধীরা এই বিষয়টিতে আপত্তি করছে।