ওঙ্কার ডেস্ক: অসমে ভারতীয় বিমানবাহিনীর সঙ্গে যুক্ত এক বেসামরিক কর্মীকে পাকিস্তানের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যা ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে প্রতিরক্ষা মহলে। ধৃত ব্যক্তি সুমিত কুমার, যিনি ডিব্রুগড় জেলার চাবুয়া বিমানঘাঁটিতে মাল্টি-টাস্কিং স্টাফ হিসেবে কর্মরত ছিলেন। অভিযোগ, নিজের দায়িত্বের সুযোগ নিয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে সংবেদনশীল সামরিক তথ্য সংগ্রহ করে তা বিদেশে পাচার করছিলেন।
তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, সোশ্যাল মিডিয়া এবং এনক্রিপ্টেড যোগাযোগ ব্যবস্থার মাধ্যমে পাকিস্তানি হ্যান্ডলারদের সঙ্গে তাঁর নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। সেই সূত্রেই গুরুত্বপূর্ণ সামরিক তথ্য যেমন বিমানঘাঁটির ভৌগোলিক বিন্যাস, যুদ্ধবিমান সংক্রান্ত তথ্য, প্রতিরক্ষা পরিকাঠামোর বিবরণ ধাপে ধাপে পাচার করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ। গোয়েন্দাদের মতে, এই ধরনের তথ্য দেশের নিরাপত্তার পক্ষে অত্যন্ত স্পর্শকাতর এবং তা ফাঁস হওয়া বড়সড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
এই গ্রেপ্তারি একটি সুপরিকল্পিত যৌথ অভিযানের ফল। রাজস্থান ইন্টেলিজেন্স এবং বিমানবাহিনীর গোয়েন্দা শাখা একসঙ্গে কাজ করে এই চক্রের সূত্র খুঁজে পায়। চলতি বছরের শুরুতে রাজস্থানে এক সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের পর তদন্তের জাল বিস্তার করা হয়, এবং সেই সূত্রেই সুমিত কুমারের নাম সামনে আসে। পরে নজরদারি চালিয়ে নিশ্চিত হওয়ার পর তাঁকে আটক করা হয়।
তদন্তে আরও উঠে এসেছে, ২০২৩ সাল থেকেই অভিযুক্তের বিদেশি যোগাযোগ তৈরি হয়েছিল এবং সম্ভবত অর্থের বিনিময়ে তিনি তথ্য পাচার করতেন। তাঁর ব্যাঙ্ক লেনদেন, মোবাইল ডিভাইস এবং অনলাইন কার্যকলাপ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এর পাশাপাশি, তিনি একা কাজ করছিলেন নাকি বৃহত্তর কোনও গুপ্তচর নেটওয়ার্কের অংশ সেটাও খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী সংস্থাগুলি।
ঘটনায় সরকারি গোপনীয়তা আইনসহ একাধিক ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে। ধৃত ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে আরও তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অভ্যন্তরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কতটা সুরক্ষিত, তা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। পাশাপাশি, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা রুখতে আরও কঠোর নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে আসছে বিভিন্ন মহল থেকে।