ওঙ্কার ডেস্ক: যৌন হেনস্তা ও নির্যাতন সংক্রান্ত মামলায় ভুক্তভোগীর পরিচয় গোপন রাখার বিষয়ে আরও কড়া অবস্থান নিল দেশের শীর্ষ আদালত। দেশের সমস্ত উচ্চ আদালতের রেজিস্ট্রার জেনারেলদের উদ্দেশে শীর্ষ আদালত স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে, আইনে নির্ধারিত বিধান অনুযায়ী কোনওভাবেই ভুক্তভোগীর পরিচয় প্রকাশ করা যাবে না এবং এই নির্দেশ কঠোরভাবে মেনে চলা নিশ্চিত করতে হবে।
আদালতের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে, বহু ক্ষেত্রে এখনও এই গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে না। কিছু আদালতের আদেশ, নথি বা বিচার সংক্রান্ত নথিপত্রে এমন তথ্য প্রকাশ পাচ্ছে, যা থেকে ভুক্তভোগীর পরিচয় সহজেই জানা যেতে পারে। এই প্রবণতা অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেছে আদালত। বিশেষ করে ধর্ষণ, যৌন নির্যাতন বা শিশুদের বিরুদ্ধে অপরাধ সংক্রান্ত মামলায় ভুক্তভোগীর পরিচয় প্রকাশ করা আইনত দণ্ডনীয়। তবুও বাস্তবে বিভিন্ন স্তরে এই নিয়ম লঙ্ঘনের ঘটনা সামনে আসায় শীর্ষ আদালত হস্তক্ষেপ করতে বাধ্য হয়েছে। আদালত জানিয়েছে, বিচারপ্রক্রিয়ার প্রতিটি স্তরে মামলার নথি প্রস্তুত করা থেকে শুরু করে রায় প্রকাশ সমস্ত ক্ষেত্রেই এই গোপনীয়তা বজায় রাখতে হবে।
এই প্রেক্ষিতে উচ্চ আদালতগুলিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, প্রয়োজনে ভুক্তভোগীর নামের পরিবর্তে ছদ্মনাম ব্যবহার করতে হবে, সংবেদনশীল তথ্য আংশিক আড়াল করতে হবে এবং এমন কোনও তথ্য প্রকাশ করা যাবে না, যা থেকে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে পরিচয় ফাঁস হতে পারে। পাশাপাশি, এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের সচেতনতা বাড়ানো এবং নিয়মিত নজরদারির ব্যবস্থাও জোরদার করতে বলা হয়েছে। এই নির্দেশ কেবল আদালতের জন্য নয়, তদন্তকারী সংস্থা, আইনজীবী এবং মামলার সঙ্গে যুক্ত সমস্ত পক্ষের ক্ষেত্রেই সমানভাবে প্রযোজ্য। ভুক্তভোগীর ব্যক্তিগত মর্যাদা ও নিরাপত্তা রক্ষা করা বিচারব্যবস্থার একটি মৌলিক দায়িত্ব বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
আইনজ্ঞদের মতে, এই নির্দেশ কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে যৌন অপরাধের মামলায় ভুক্তভোগীদের মানসিক সুরক্ষা বাড়বে এবং তারা আরও সাহসের সঙ্গে অভিযোগ জানাতে এগিয়ে আসতে পারবেন। একই সঙ্গে বিচারব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা আরও সুদৃঢ় হবে বলেও মনে করা হচ্ছে।