ওঙ্কার ডেস্ক: আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা ও সীমান্ত সংঘর্ষের প্রেক্ষাপটে ফের শান্তি আলোচনার উদ্যোগ নিয়েছে চিন। এই আবহেই ইসলামাবাদ কাবুলের সামনে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত তুলে ধরেছে, যেগুলিকে তারা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ক্ষেত্রে অপরিহার্য বলে মনে করছে।
পাকিস্তানের প্রথম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দাবি, আফগানিস্তানের ভূখণ্ডে সক্রিয় তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি)-কে আনুষ্ঠানিকভাবে সন্ত্রাসবাদী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করতে হবে। পাকিস্তানের অভিযোগ, এই সংগঠন আফগান মাটিকে ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করে বারবার পাকিস্তানের অভ্যন্তরে হামলা চালাচ্ছে। ফলে টিটিপি-র বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান না নিলে কোনওভাবেই নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব নয় বলে মনে করছে ইসলামাবাদ।
দ্বিতীয় শর্ত হিসেবে পাকিস্তান স্পষ্ট করে দিয়েছে, শুধুমাত্র ঘোষণায় থেমে থাকলে চলবে না আফগান প্রশাসনকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। অর্থাৎ, জঙ্গি ঘাঁটি ধ্বংস করা, তাদের চলাচল ও সংগঠনকে নিষ্ক্রিয় করা এবং সীমান্ত পেরিয়ে হামলার সমস্ত পথ বন্ধ করার মতো বাস্তব পদক্ষেপ নিতে হবে। পাকিস্তান চাইছে, এই পদক্ষেপের স্পষ্ট প্রমাণও যেন আন্তর্জাতিক মহলের সামনে তুলে ধরা হয়।
তৃতীয়ত, দুই দেশের মধ্যে অশান্ত সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলা হয়েছে। সীমান্তে নজরদারি বাড়ানো, অনুপ্রবেশ রোধ এবং দ্বিপাক্ষিক নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদার করার ওপর জোর দিচ্ছে পাকিস্তান। তাদের মতে, এই পদক্ষেপগুলি গ্রহণ করা না হলে ভবিষ্যতে সংঘর্ষ আরও বাড়তে পারে।
উল্লেখ্য, গত কয়েক মাসে পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে একাধিকবার সংঘর্ষ, গুলি বিনিময় এবং হামলার ঘটনা ঘটেছে, যার জেরে দুই দেশের সম্পর্ক তলানিতে ঠেকেছে। পাকিস্তান বারবার দাবি করেছে, আফগানিস্তানের ভেতরে থাকা জঙ্গি সংগঠনগুলির মদতেই এই হামলা চলছে। যদিও আফগানিস্তান এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
এই পরিস্থিতিতে আঞ্চলিক শক্তিগুলির মধ্যস্থতায় শান্তি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলছে। তবে পাকিস্তান স্পষ্ট করে দিয়েছে, তাদের এই তিনটি মূল দাবি পূরণ না হলে কোনও স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। ফলে এখন নজর কাবুলের প্রতিক্রিয়ার দিকে এই শর্তগুলি মানা হবে কি না, তার ওপরই নির্ভর করছে দুই দেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্কের গতিপথ।