পাকিস্থানের গ্যাংগ্রিন
যে কোনো ছুতোয় ভারত বিরোধীতাকে দেশের নীতি হিসেবে প্রাধান্য দিতে গিয়ে চরম খেসারত দিতে হচ্ছে পাকিস্তানকে। কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা বাতিলের পর ইসলামাবাদ ভারতের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্য বন্ধ করে দিয়েছিল। বর্তমানে সেটা কতটা অদূরদর্শী সিদ্ধান্ত ছিল তা নিশ্চয়ই হাড়ে হাড়ে উপলব্ধি করছে পাকিস্তান। পাকিস্তান-ভারত বিজনেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান নূর মুহাম্মদ কাসুরি জানিয়েছেন, ২০১৯ সালে ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য বন্ধ করার সিদ্ধান্তে পাকিস্তানের প্রায় ৪০ বিলিয়ন ডলারের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। দূরবর্তী বাজার থেকে পণ্য আনতে বাধ্য হওয়ায় ব্যবসায়ীদের পণ্য সংগ্রহ ও পরিবহন খরচ অনেক বেড়ে গেছে। এমনিতেই গভীর সংকটের মধ্যে রয়েছে পাকিস্তান। যার মধ্যে রয়েছে একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর কারাবাস, দেশের প্রায় সব অঞ্চল ও প্রান্তে বিক্ষোভ, তীব্র জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক সংস্থাগুলোর কঠোর নিয়ন্ত্রণে টিকে থাকা এক ভঙ্গুর অর্থনীতি। গবেষণায় দেখা গেছে, ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য করার বিষয়ে পাকিস্তানি ব্যবসায়ীদের প্রবল আগ্রহ রয়েছে। এমনকি লাহোর চেম্বার অব কমার্সও একসময় পরামর্শ দিয়েছিল, পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ বাজারকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য উন্মুক্ত করার আগে, একটি মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চলে ভারতের সঙ্গে সুস্থ প্রতিযোগিতার পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন। গবেষণায় ভারতের কম শ্রমব্যয় এবং সম্পূর্ণ রপ্তানিমুখী শিল্পকারখানাগুলোর কথা উল্লেখ করে বলা হয়েছে, ভারত ও পাকিস্তান যদি একে অপরের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় না নেমে বরং নিজেদের সম্পদ একত্রিত করে, তবে তা উভয় দেশের জন্যই সুবিধাজনক হবে। এগুলো ছিল সেই সোনালী সময়ের বিশ্লেষণ, যখন এসব বিষয় নিয়ে কথা বলাকে অপরাধ বলে গণ্য করা হতো না। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন সম্মেলন ও গবেষণাপত্রে এই অঞ্চলের সব দেশের জন্য খাদ্য বা পণ্য বাণিজ্যের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। এছাড়া, ১২০ একর বিস্তৃত আটারি স্থল সীমান্তে কর্মরত শত শত চালক, লোডার এবং অন্যান্য পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত মানুষের কর্মসংস্থানের বিষয়টিও উঠে এসেছে। তবে মূল বিষয়টি হল—ভারতের সামগ্রিক বাণিজ্য ক্রমাগত বৃদ্ধি পেয়েছে এবং এ বছর তা ১ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। পাকিস্তানের ক্ষেত্রে চিত্রটি সম্পূর্ণ বিপরীত। ২০২৩ সাল থেকে তাদের বাণিজ্যে ক্রমাগত সংকোচন দেখা যাচ্ছে। সহজ কথায় বলতে গেলে, পাকিস্তান ছাড়া ভারত টিকে থাকতে পারে, কিন্তু ভারত ছাড়া পাকিস্তানের টিকে থাকা সম্ভব নয়। এটাই বাস্তবতা।