ট্রাম্পের হাতে যদি SIR থাকতো
৩ নভেম্বর আমেরিকায় অন্তর্বর্তী নির্বাচন। এই নির্বাচনের ফলাফলেই নির্ধারিত হবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট কালের শেষ দু’ বছর হাউস ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে। সে দেশে প্রাকনির্বাচনী হাওয়ার যা গতি প্রকৃতি তাতে ট্রাম্পের কপালে ভাঁজ পড়া অহেতুক নয়। খেয়ালখুশি ও ক্ষমতা প্রদর্শনের দম্ভকে তিনি যে উচ্চ শিখরে নিয়ে গিয়েছিলেন, তার ভবিষ্যতের কথা ভেবে নিশ্চয়ই তাঁর এখন ভারতের কথা মনে পড়তে পারে। ঈর্ষা করতে পারেন বন্ধু মোদীর সুদীর্ঘ শাসনকালকে। মনে হতে পারে, শুল্ক নিয়ে প্রায় গোটা বিশ্বকে নাস্তানাবুদ না করে তিনি যদি নিজের দেশে নির্বাচনী সংস্কার নিয়ে মাথা ঘামাতেন তাহলে হয়তো চিন্তার বোঝা লাঘব হতে পারতো। যদিও এ ব্যাপারে তৎপর যে হননি তা নয়। সে বিষয়ে পরে আসছি। তার আগে বলে রাখি, ভারতের মতো আমেরিকায় কোনো একক নির্বাচন কমিশন নেই। ফলে সার্বিক ভোট নিয়ন্ত্রণের রাষ্ট্রীয় যন্ত্র ব্যবহারের কোনো সুযোগ নেই আমেরিকায়। বরং ভারতের সম্পূর্ণ বিপরীত নিয়মকানুনে সেখানে চালিত হয় ভোট প্রক্রিয়া। আমেরিকার ৫০টি অঙ্গরাজ্যের প্রতিটি নিজস্ব নির্বাচনী আইন নির্ধারণ করে। এমনকি কংগ্রেসের নির্বাচনের ক্ষেত্রেও। কারা ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হতে পারবে, কী ধরনের পরিচয়পত্র প্রয়োজন, ডাকযোগে আসা ব্যালট কীভাবে গণনা করা হবে এবং নির্বাচনী এলাকাগুলো কীভাবে গঠিত হবে—এসবই অঙ্গরাজ্যগুলো ঠিক করে। এমন কি নির্বাচনী কেন্দ্রের সীমানা নির্ধারণের বিষয়টিও আমেরিকার অধিকাংশ অঙ্গরাজ্যে যে রাজনৈতিক দল রাজ্য আইনসভায় ক্ষমতায় থাকে, তারাই এই সীমানা নির্ধারণ করে। এক্ষেত্রেও ভারতের মতো আমেরিকায় কোনো ‘ডিলিমিটেশন কমিশন’ নেই। সবচেয়ে বড় কথা, যে দল যে অঙ্গরাজ্যের ক্ষমতায় থাকে, তারাই সেখানকার ভোটিং বা ভোটগ্রহণের নিয়মকানুন নিয়ন্ত্রণ করে। আর পুরো দেশে অভিন্ন নিয়ম নিশ্চিত করার মতো কোনো জাতীয় কর্তৃপক্ষ সেখানে নেই।
ট্রাম্প যে ভারতের অনুকরণে ভোট প্রক্রিয়ার পরিবর্তন আনতে চাননি তা নয়। একটা জোরদার চেষ্টা করেছিলেন। এই লক্ষ্যে ২০২৫ সালের মার্চ মাসে একটি নির্বাহী আদেশ জারি করেছিলেন। যার উদ্দেশ্য ছিল—নিবন্ধনের সময় ভোটারদের পাসপোর্ট বা জন্ম সনদের মাধ্যমে নাগরিকত্বের প্রমাণ দেওয়া বাধ্যতামূলক করা, নির্বাচনের দিনের পর ডাকযোগে আসা ব্যালট গণনা করা থেকে অঙ্গরাজ্যগুলোকে বিরত রাখা এবং অঙ্গরাজ্যগুলোর ভোটার তালিকায় কেন্দ্রীয় সরকারের প্রবেশাধিকার বাড়ানো। ট্রাম্পের ওই আদেশে ভারতের প্রশংসা করে বলা হয়েছিল, “ভারত ও ব্রাজিল ভোটার শনাক্তকরণ প্রক্রিয়াকে বায়োমেট্রিক ডেটাবেসের সঙ্গে যুক্ত করছে”, অথচ আমেরিকানরা কেবল নিজেদের নাগরিকত্বের ঘোষণা দেয়। কিন্তু ফেডারেল বিচারকরা এই আদেশের অধিকাংশ অংশই বাতিল করে দেন। তাঁরা রায় দেন, কংগ্রেস এবং অঙ্গরাজ্যগুলোর এখতিয়ারভুক্ত নিয়মকানুন পরিবর্তনের ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির নেই। ট্রাম্পের দ্বিতীয় পদক্ষেপটিতে প্রতিটি অঙ্গরাজ্যের ভোটারদের ব্যক্তিগত তথ্যসহ পূর্ণাঙ্গ ভোটার তালিকা চেয়ে পাঠানো হয়, যাতে তালিকায় কোনো অ-নাগরিক রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে পারে বিচার বিভাগ। ভারতীয়দের কাছে বিষয়টি SIR-এর মতো মনে হতে পারে। কিছু অঙ্গরাজ্য এতে সম্মত হলেও প্রায় দুই ডজন অঙ্গরাজ্য তা প্রত্যাখ্যান করে, যার ফলে বিষয়টি আদালতে গড়ায়। এই অবস্থায় হাত কামড়ালেও ট্রাম্পের কাছে একটাই সান্ত্বনা, ভারতের মতো ভোট চুরির অপবাদ ওঠার কোনো সম্ভাবনা নেই আমেরিকায়।