অঞ্জন চট্টোপাধ্যায়
কেন বারবার এমন হয় বারবার ভালো শুরু করেও বাংলা ক্রিকেটে বিপর্যয় নেমে এসে। টানা ৩ ম্যাচ জেতার পরে প্রিয় ইডেনে মহারাষ্ট্রর কাছে ১০ উইকেটে কচু কাঁটা হওয়ার পরে এই প্রশ্নই যেন উঠছে। শেষদিনে বাংলার দরকার ছিল একটা ভালো পার্টনারশীপ অথবা বৃষ্টি। বৃষ্টি এলো না ভালো পার্টনারশীপও হল না। ৬৫ রান করে আউট হলেন অভিষেক পোড়েল । সুমন্ত গুপ্ত নীচের সারির ব্যাটারদের নিয়ে কিছুটা খেলার চেষ্টা করলেন। কিন্তু ৫৯ রানে তিনি আউট হতেই বাংলার ইনিংস ১৮৬ রানে অল আউট হয়ে যায়।
মহারাষ্ট্রের সামনে জয়ের লক্ষ্য ছিল ১১২ রান। সেই রান করতে ২০ ওভারও লাগল না তাদের। দুই ওপেনার পৃথ্বী ও সচিন ধাস টি ২০ স্টাইলে ব্যাট করলেন আর শেষ করে দিলেন বাংলাকে।প্রথম ইনিংসে পৃথ্বী শ-র অফস্টাম্প ছিটকে দিয়েছিলেন মহম্মদ শামি। সেই পৃথ্বী দ্বিতীয় ইনিংসে ৪৬ বলে হাফসেঞ্চুরি করলেন। শাহবাজ আমেদকে মাথার ওপর দিয়ে ছক্কা মারলেন। বল গিয়ে পড়ল সোজা সাইটস্ক্রিনে।
বাংলার দ্বিতীয় ইনিংস যখন শেষ হল, ৬৫ ওভার খেলা বাকি ছিল। ৬৫ ওভারে ১১২ তুলে জিততে হতো মহারাষ্ট্রকে। ১৯.৪ ওভারে সেই রান তুলে নিল মহারাষ্ট্র। ৫০ বলে ৫৩ রানের অপরাজিত ইনিংস পৃথ্বীর। ৬৮ বলে ৬১ রান করে অপরাজিত রইলেন ধাস। আগের ম্যাচে ১০ উইকেট নেওয়া প্রদীপ্ত এই ম্যাচে উইকেট শূন্য। ব্যাটারদের কথা যত কম লেখা যায়, ততই ভাল।চতুর্থ ম্যাচে বাংলার জয়ের অশ্বমেধকে হ্যাঁচকা টানে মাটিতে আছড়ে ফেলল মহারাষ্ট্র। ৪ ম্যাচে ১৯ পয়েন্টে পৌঁছে গেল মহারাষ্ট্র। সেই সঙ্গে রঞ্জি ট্রফির এলিট গ্রুপ সি-তে শীর্ষে উঠে এল মহারাষ্ট্র। বাংলা নেমে গেল দুইয়ে।২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি। রঞ্জি ট্রফিতে শেষবার এই মাঠে হেরেছিল বাংলা। মুম্বইয়ের কাছে, ইনিংস ও ৪ রানে। বোনাস পয়েন্ট সহ জিতেছিলেন শিবম দুবেরা। ২০২৬ সালের নভেম্বরে ফের বাংলার বিপর্যয় ইডেন গার্ডেন্সে। এবার মহারাষ্ট্রের কাছে। বোনাস সহ সাত পয়েন্ট পেলেন পৃথ্বী শ-রা। ১০ উইকেটে ম্যাচ জিতলেন। কাকতালীয় হলেও, ২০২৪ সালে মুম্বইয়ের হয়ে ইনিংস ওপেন করেছিলেন পৃথ্বী। এখন তিনি মহারাষ্ট্রের অধিনায়ক। আড়াই বছরের ব্যবধানে ইডেনে বাংলার দুই পরাজয়ের সাক্ষী।আপাতত বিরতি রঞ্জির এবারে শুরু হবে বিজয় হাজারে ট্রফি। বাংলা আবার নতুন বছরে রঞ্জিতে ১৭ জানুয়ারি গুজরাটের বিরুদ্ধে নামবে এবারে ঘুরে দাঁড়াতে পারে কিনা দল সেটাই দেখার।