ওঙ্কার ডেস্ক: শনিবার পাকিস্তানের রাজধানী ইসলাবাদে ইরান এবং আমেরিকার মধ্যে শান্তি বৈঠকের আগেই ফের ইরানকে হুমকি দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। ইসলামাবাদে সম্ভাব্য শান্তি বৈঠক শুরুর আগেই হরমুজ প্রণালী নিয়ে ফের মন্তব্য করেছেন প্রেসিডেন্ট। এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট করে জানান, “চুক্তি হবে, না হলে হামলা আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তা পরিষ্কার হয়ে যাবে।”
একই সঙ্গে মার্কিন সামরিক প্রস্তুতির কথাও তুলে ধরেছেন তিনি। ট্রাম্পের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যেই তাদের যুদ্ধসামগ্রী প্রস্তুত করতে শুরু করেছে এবং জাহাজগুলিতে অত্যাধুনিক অস্ত্র মোতায়েন করা হচ্ছে। তাঁর কথায়, আগের তুলনায় আরও শক্তিশালী প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে, এবং আলোচনায় সমাধান না এলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এমনকি তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, চুক্তি না হলে ইরানের বিরুদ্ধে বড়সড় সামরিক আঘাত হানতেও পিছপা হবে না আমেরিকা। নিজের সমাজমাধ্যমেও ইরানকে নিশানা করেছেন ট্রাম্প। তিনি মন্তব্য করেন, ইরান এখন কোনও সুবিধাজনক অবস্থানে নেই এবং আন্তর্জাতিক জলপথকে ব্যবহার করে চাপ সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে। তাঁর অভিযোগ, বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথকে নিয়ন্ত্রণ করে কার্যত অর্থ আদায়ের চেষ্টা করছে তেহরান।
প্রসঙ্গত, যুদ্ধবিরতির সময় ইরান প্রাথমিকভাবে হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেলবাহী জাহাজের অবাধ যাতায়াতে সম্মতি জানিয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে তারা জানায়, ওই জলপথের উপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতেই থাকবে। পাশাপাশি দিনে নির্দিষ্ট সংখ্যক জাহাজ চলাচলের সীমা বেঁধে দেওয়া এবং তার জন্য শুল্ক নেওয়ার কথাও ঘোষণা করে। এই পদক্ষেপকেই সরাসরি ‘তোলাবাজি’ বলে অভিহিত করেছেন ট্রাম্প। তিনি আরও উল্লেখ করেন, যুদ্ধ শুরুর আগে প্রতিদিন শতাধিক জাহাজ এই প্রণালী দিয়ে যাতায়াত করত, কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই সংখ্যা অনেকটাই কমে গিয়েছে। এই অবস্থার পরিবর্তন না হলে সংঘাত আরও বাড়তে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
উল্লেখযোগ্যভাবে, ১৯৭৯ সালের ইরানের ইসলামিক বিপ্লব-এর পর এই প্রথমবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে এত উচ্চপর্যায়ের সরাসরি বৈঠক হতে চলেছে। মার্কিন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে থাকবেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তাঁর সঙ্গে থাকবেন মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ এবং প্রাক্তন উপদেষ্টা জারেড কুশনার। অন্যদিকে, ইরানের প্রতিনিধি দলে থাকছেন পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এবং বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। জানা গিয়েছে, গালিবাফ অতীতে ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কোরের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
এই বৈঠকের প্রথম পর্বে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং বিদেশমন্ত্রী ইশাক দারও উপস্থিত থাকতে পারেন। ইরানের সঙ্গে পাকিস্তানের দীর্ঘ সীমান্ত এবং দেশের মধ্যে উল্লেখযোগ্য শিয়া জনসংখ্যা থাকার কারণে ইসলামাবাদ এই আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা নিতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, এই বৈঠক সফল হলে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা কিছুটা কমতে পারে। তবে আলোচনার আগেই যে ধরনের হুঁশিয়ারি ও পাল্টা অবস্থান সামনে আসছে, তাতে পরিস্থিতি কোন দিকে গড়াবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।