
প্রাইমা হোসেন
দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান হতে চলেছে। বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের আশা-ভরসার প্রতীক, বঙ্গবন্ধুর রক্তের উত্তরাধিকার, দেশরত্ন শেখ হাসিনা আবার পা রাখতে চলেছেন স্বদেশের মাটিতে। তিনি শুধু একজন নেত্রী নন। তিনি বাংলাদেশের হৃদস্পন্দন।
১৯৭৫ সালের পর যখন এই দেশ অন্ধকারে ডুবে গিয়েছিল, যখন মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে মুছে ফেলার ষড়যন্ত্র চলছিল, তখন ১৯৮১ সালে এক তরুণী বুক পাটা আর্তনাদ নিয়ে দেশে ফিরেছিলেন। সেদিন তিনি বলেছিলেন – “আমি বেঁচে থাকতে বাংলাদেশের মানুষের অধিকার কেউ কেড়ে নিতে পারবে না।”
সেই প্রতিজ্ঞা তিনি রেখেছেন। বিগত ১৫ বছরে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ পাল্টে গেছে। পদ্মা সেতু নিজস্ব অর্থে, মেট্রোরেল, কর্ণফুলী টানেল, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, ডিজিটাল বাংলাদেশ – এগুলো শুধু উন্নয়ন নয়। এগুলো ৫৬ হাজার বর্গমাইলের একটি জাতির আত্মমর্যাদার প্রতীক।
আজকের তরুণ প্রজন্ম ইউটিউবে, ফেসবুকে, টিকটকে শেখ হাসিনার উন্নয়নের গল্প দেখে বড় হয়েছে। তারা দেখেছে কিভাবে একটি মেয়ে ১০ বছরের ছেলেকে কোলে নিয়ে বলেছিল “তুমি পড়াশোনা করো, আমি তোমার দায়িত্ব নিলাম”। তরুণরা জানে, চাকরি, ফ্রিল্যান্সিং, স্টার্টআপ – এই সুযোগগুলো শেখ হাসিনাই তৈরি করে দিয়েছেন। তরুণরা জানে, খেলার মাঠ, লাইব্রেরি, বিশ্ববিদ্যালয় – এগুলো শেখ হাসিনার অবদান। তাই আজ যখন “নেত্রী আসছেন” এই খবর আসে, তখন , বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ ক্যাম্পাসে, ঢাকার রাজপথে তরুণ প্রজন্মের বুকে নতুন করে রক্তের সঞ্চার হয়। তারা বলছে: “নেত্রী, আমরা প্রস্তুত। আপনার নির্দেশের অপেক্ষায়।”
শেখ হাসিনা মানে শুধু রাজনীতি নয়। শেখ হাসিনা মানে একজন মা, যিনি ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ান। শেখ হাসিনা মানে একজন শিক্ষক, যিনি প্রতিটি শিশুর হাতে বই তুলে দেয়। শেখ হাসিনা মানে একজন কৃষকের বন্ধু, যিনি ১০ টাকায় চালের ব্যবস্থা করেন। তিনি সমাজের প্রতিটি শ্রেণির মানুষের সাথে মিশে গেছেন। গৃহহীনকে ঘর দিয়েছেন, বিধবাকে ভাতা দিয়েছেন, প্রতিবন্ধীকে সুযোগ দিয়েছেন। এই কারণেই বাংলাদেশের মানুষ তাকে “মাদার অফ হিউম্যানিটি” উপাধি দিয়েছে।
ষড়যন্ত্রকারীরা ভেবেছিল আওয়ামী লীগকে নিঃশেষ করে দেবে। ভেবেছিল বঙ্গবন্ধুর আদর্শের কবর রচনা করবে। কিন্তু তারা জানে না, শেখ হাসিনা যতদিন আছেন, ততদিন বাংলাদেশের মাটিতে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা জীবিত থাকবে। যতদিন বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষ আওয়ামী লীগের লক্ষ লক্ষ কোটি কোটি কর্মী সমার্থক জীবিত থাকবে এই বাংলার মহান মুক্তিযুদ্ধ ইতিহাস আছে থাকবে। ষড়যন্ত্রকারীরা যতই ষড়যন্ত্র করুক না কেন? তারা ব্যর্থ হবে। এবং ভবিষ্যতে সামনের যে দিন আসতেছে তাদেরকে কাউকে খুঁজে পাওয়া যাবে না।
শেখ হাসিনা আসছেন – এই প্রত্যাবর্তন কোনো সাধারণ প্রত্যাবর্তন নয়। যারা দেশকে অস্থিতিশীল করতে চায়, যারা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করতে চায়, তাদের স্পষ্ট করে বলে দিতে চাই – বাংলাদেশের একমাত্র নেত্রী শেখ হাসিনা। বিকল্প নেই, বিকল্প হবে না।