ওঙ্কার ডেস্ক: প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে বিরোধীদের আনা মহাভিযোগের প্রস্তাব শেষ পর্যন্ত খারিজ হয়ে গেল সংসদে। লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা এবং রাজ্যসভার চেয়ারম্যান সি পি রাধাকৃষ্ণণ উভয়েই এই নোটিস গ্রহণ করতে অস্বীকার করেন, ফলে প্রস্তাবটি প্রাথমিক স্তরেই বাতিল হয়ে যায়। উল্লেখ্য মুখ্য নির্বাচন কমিশনার একটি সাংবিধানিক পদ। এই পদ থেকে কোনো ব্যক্তিকে অপসরণ করতে গেলে নূন্যতম ১০০ জন সাংসদের সম্মতিপুর্ণ স্বাক্ষর লাগে। বর্তমান মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে অপসরণের পক্ষে মোট ১৯৩ জন বিরোধী সাংসদ স্বাক্ষর করেছিলেন।
বিরোধী দলগুলির অভিযোগ ছিল, সাম্প্রতিক সময়ে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিরপেক্ষতার সীমা অতিক্রম করেছে। বিশেষ করে ভোটার তালিকার ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ বা এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তোলা হয়। অভিযোগ ওঠে, বহু বৈধ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে, যা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায়সংগততার উপর প্রভাব ফেলতে পারে। এই প্রেক্ষিতেই বিরোধী সাংসদদের একাংশ মহাভিযোগের নোটিস জমা দেন।
প্রস্তাবটিতে বলা হয়, প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছেন তিনি এবং একাধিক প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত পক্ষপাতদুষ্ট বলে মনে হয়েছে। এই অভিযোগগুলির ভিত্তিতেই সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ী তাঁকে অপসারণের দাবি জানানো হয়। তবে লোকসভা ও রাজ্যসভার শীর্ষ পদাধিকারীদের সিদ্ধান্তে স্পষ্ট হয়, তারা এই অভিযোগগুলিকে প্রাথমিকভাবে গ্রহণযোগ্য বলে মনে করেননি। সংসদীয় নিয়ম অনুযায়ী, মহাভিযোগ প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার আগে স্পিকার বা চেয়ারম্যানের অনুমোদন প্রয়োজন হয়। সেই অনুমোদন না মেলায় প্রস্তাবটি আর এগোয়নি।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে উত্তেজনা বাড়ছে। বিরোধী শিবিরের দাবি, এটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অবমূল্যায়ন এবং নির্বাচন কমিশনের জবাবদিহি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা। প্রস্তাব খারিজ হলেও বিষয়টি এখানেই থেমে থাকবে না বলেই মনে করা হচ্ছে। বিরোধীরা আইনি পথের পাশাপাশি রাজনৈতিক চাপ বাড়ানোর কৌশল নিতে পারে। ফলে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা এবং তার নিরপেক্ষতা নিয়ে বিতর্ক আগামী দিনে আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।