ওঙ্কার ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান অস্থিরতার মধ্যে এবার সরাসরি আমেরিকার বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিল সংযুক্ত আরব আমিরশাহি। দেশের ভেতরে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ঘিরেই মূলত এই অসন্তোষ প্রকাশ করেছে আবু ধাবি। আমিরশাহির দাবি, তাদের ভূখণ্ডে থাকা বিদেশি সেনাঘাঁটি দেশটিকে অযথা আঞ্চলিক সংঘাতের কেন্দ্রে ঠেলে দিচ্ছে এবং এর ফলে জাতীয় নিরাপত্তা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।
সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে ইরান ও আমেরিকার মধ্যে সংঘাত তীব্র আকার নেওয়ার পর থেকেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে গোটা পশ্চিম এশিয়ায়। এই প্রেক্ষাপটে ইরানের তরফে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়, যে সব দেশে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি রয়েছে, সেগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু হিসেবে দেখা হতে পারে। সেই আশঙ্কাই বাস্তবে রূপ নিতে শুরু করেছে বলে মনে করছে আমিরশাহি। কারণ, তাদের ভূখণ্ডে থাকা একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন ঘাঁটি সম্ভাব্য হামলার ঝুঁকির মধ্যে পড়ে গেছে।
আমিরাতের শীর্ষ পর্যায়ের সূত্রগুলি জানাচ্ছে, দেশের ভেতরে থাকা এই ঘাঁটিগুলি মূলত আমেরিকার সামরিক কৌশলের অংশ হলেও এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে স্থানীয় নিরাপত্তার উপর। ফলে আমিরাত কার্যত এমন এক সংঘাতে জড়িয়ে পড়ছে, যার সঙ্গে তাদের নিজস্ব কোনও সরাসরি সম্পর্ক নেই। এই পরিস্থিতিকে ‘অন্যের যুদ্ধ নিজের ঘাড়ে নেওয়া’ বলেই অভিহিত করা হচ্ছে।
একই সঙ্গে আমিরাত স্পষ্ট করেছে, তাদের সার্বভৌমত্ব ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা রক্ষাই এখন প্রধান অগ্রাধিকার। সে কারণে বিদেশি সামরিক উপস্থিতি নিয়ে নতুন করে ভাবনা-চিন্তা করা হতে পারে বলেও ইঙ্গিত মিলেছে। কূটনৈতিক মহলের মতে, এটি শুধুমাত্র ক্ষোভ প্রকাশ নয়, বরং আমেরিকার প্রতি একটি পরোক্ষ বার্তা যে কোনও দেশের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার বিনিময়ে সামরিক জোট দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে না।
এই অবস্থান গোটা অঞ্চলের কূটনৈতিক সমীকরণে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এতদিন পর্যন্ত আমেরিকার ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত আমিরশাহির এই বক্তব্য স্পষ্ট করে দিচ্ছে, পশ্চিম এশিয়ায় এখন প্রত্যেক দেশই নিজেদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। ফলে ভবিষ্যতে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ঘিরে নতুন করে বিতর্ক ও টানাপোড়েন তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।