ওঙ্কার ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালী এখনও পুরোপুরি স্বাভাবিক করা সম্ভব হচ্ছে না ইরানের পক্ষে। আন্তর্জাতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে, কেন এই জলপথ সম্পূর্ণ খুলে দেওয়া যাচ্ছে না। মার্কিন মুলিক থেকে দাবী তোলা হয়েছে যে হরমুজ প্রণালীতে অসংখ্য মাইন পেতে রেখছে ইরান, আর তা এখন চিহ্নিত করতে কার্যত হিমশিম খাচ্ছে তেহরান। সেই কারণেই যুদ্ধবিরতির পরও পুরোপুরি হরমুজ খুলে দিতে পারছে না ইরান বলে মন্তব্য করা হয় ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে।
ইরান হরমুজ প্রণালী কেন এখনও স্বাভাবিক পর্যায়ে আনছে না তার কারণ হিসাবে বলা যায়, প্রথমত, চলমান সামরিক উত্তেজনা পরিস্থিতিকে অত্যন্ত অনিশ্চিত করে তুলেছে। ইরান, আমেরিকা এবং ইজরায়েল এই তিন পক্ষের মধ্যে টানাপোড়েনের ফলে ওই অঞ্চলে যুদ্ধের আবহ বজায় রয়েছে। ফলে জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ড্রোন হামলা, নৌ-সংঘর্ষ বা আকস্মিক আক্রমণের আশঙ্কা থাকায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজগুলির অনেকেই এই পথ এড়িয়ে চলার চেষ্টা করছে।
দ্বিতীয়ত, সমুদ্রপথে সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধি এবং সম্ভাব্য মাইন পাতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। যুদ্ধ পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত স্বাভাবিক নৌ-চলাচল চালু করা কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে ইরান চাইলে রাজনৈতিকভাবে পথ খুলে দেওয়ার ঘোষণা করলেও বাস্তবে তা কার্যকর করা সহজ নয়।
তৃতীয়ত, কৌশলগত দিক থেকেও এই প্রণালী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বের বিপুল পরিমাণ তেল এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। তাই এই পথের উপর আংশিক নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখে ইরান আন্তর্জাতিক মহলের উপর চাপ সৃষ্টি করতে পারছে। বিশ্লেষকদের মতে, আলোচনার টেবিলে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতে এই পথকে এক ধরনের ‘কূটনৈতিক হাতিয়ার’ হিসেবে ব্যবহার করছে তেহরান।
এছাড়া, জাহাজ চলাচলে সীমাবদ্ধতা এবং শুল্ক আরোপের প্রস্তাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। নির্দিষ্ট সংখ্যার বেশি জাহাজ চলাচলে অনুমতি না দেওয়া এবং তার জন্য অর্থ নেওয়ার পরিকল্পনা আন্তর্জাতিক মহলে সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। এর ফলে অনেক দেশ ও বাণিজ্যিক সংস্থা এই পথ ব্যবহার করতে অনীহা দেখাচ্ছে।
অন্যদিকে, বীমা ও আর্থিক ঝুঁকিও বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জাহাজের বীমা খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে। ফলে অনেক সংস্থা এই রুট ব্যবহার করলে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে। একই সঙ্গে যুদ্ধবিরতি কতটা স্থায়ী হবে, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।