ওঙ্কার ডেস্ক: কলকাতায় সোমবার রাতভর টানা বর্ষণের ফলে শহর কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। অলিগলি, রাস্তা, গলি এবং বাড়ির ভিতরেও পানি জমে, শহরের জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত। মঙ্গলবার সকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম স্বীকার করেছেন, “এই বৃষ্টি কলকাতা পৌরসংস্থার নিয়ন্ত্রণের বাইরে। প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই করার কোনো উপায় নেই।”
মেয়র জানান, “এরকম ভারী বৃষ্টি আমি কখনো দেখিনি। শহরে ৩০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টি হওয়া আগে কখনো ঘটেনি। এ ধরনের বৃষ্টিতে ড্রেনেজ ব্যবস্থা কার্যকরভাবে কাজ করতে পারছে না। খাল উপচে জল শহরে ঢুকে যাচ্ছে, সমুদ্র ভরা থাকায় জল নামার প্রক্রিয়াও থমকে গেছে।”
আলিপুর আবহাওয়া দফতরের তথ্য অনুযায়ী, সর্বাধিক ২৯৫ মিমি বৃষ্টি হয়েছে বালিগঞ্জে, মুকুন্দপুরে বৃষ্টি হয়েছে ২৮০ মিমি। গড়িয়াতে ২৭০ মিমি, যাদবপুরে ২৫৮ মিমি, গড়িয়াহাটে ২৬২ মিমি এবং কসবায় ২৪৬ মিমি বৃষ্টিপাত হয়েছে। তুলনামূলকভাবে, সবচেয়ে কম বৃষ্টি রেকর্ড হয়েছে উত্তর কলকাতার সাউথ দমদমে, মাত্র ৬১ মিমি।
ফিরহাদ হাকিম আরও বলেন, “পুরসভা পাইপ সিস্টেম ঘণ্টায় ২০ মিলিমিটার জল নামানোর ক্ষমতা রাখে, কিন্তু এই বৃষ্টির পরিমাণ ৩০০ মিলিমিটার। তাই শহরের জল দ্রুত নামানো এখন প্রায় অসম্ভব।” তিনি সতর্ক করে বলেন, নাগরিকরা আজ ঘরের বাইরে বেরোবেন না। অনেক জায়গায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টের ঘটনা ঘটছে, তাই জীবন ঝুঁকিতে না ফেলার আহ্বান জানানো হয়েছে।
শহরের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য ১০৮ ও ১০৯ নম্বর ওয়ার্ড, যেখানে ড্রেনেজের অভাব রয়েছে। মেয়র জানিয়েছেন, পুজো কমিটির সহযোগিতায় খাল ও গলিপিট পরিষ্কার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়াও, রাস্তায় থাকা গরিব ও অসহায়দের জন্য স্কুল খোলা হয়েছে, যেখানে খাবারের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
মেয়র স্মরণ করিয়ে দেন, “১৯৭৮ সালের বন্যার সময় এই ধরনের পরিস্থিতি দেখা গিয়েছিল। তবে বর্তমানে জলাধার ও খালগুলোতে প্লাস্টিক ও আবর্জনা জমে থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল।”
