ওঙ্কার ডেস্কঃ ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে মঙ্গলবার সকালেও ধিকিধিকি জ্বলছে আনন্দপুরের গোডাউন। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৮। নিখোঁজ বহু। এলাকাজুড়ে এখন কেবল স্বজনহারাদের কান্না, আর্তনাদ। নিখোঁজদের পরিবারের সদস্য, আত্মীয়রা রাতভর ওই এলাকায় অপেক্ষা করেছেন প্রিয়জনদের খবর পাওয়ায় আশায়।
রবিবার মাঝরাতে আনন্দপুরে একটি ডেকরেটরস গোডাউন ও একটি মোমো তৈরির কারখানায় আগুন লাগে। আর পাঁচটা সাধারণ আগুন লাগার ঘটনার মতোই মনে হয়েছিল এটিও। কিন্তু বেলা গড়াতেই পরিস্থিতি খারাপ হয়। স্থানীয়দের একাংশ জানাচ্ছে, প্রচুর পরিমাণ গ্যাস সিলিন্ডাল ও পাম অয়েল মুজত থাকায় আগুনের তীব্রতা এত। কিন্তু তা বলে ২৪ ঘণ্টা? এই প্রশ্ন তুলছেন অনেকেই। বিশেষজ্ঞরাও জানতে চাইছেন, ঠিক কী মজুত ছিল ওখানে, কীভাবে জতুগৃহে পরিণত হল ওই কারখানা!
মঙ্গলবার সকালেও ধ্বংসস্তূপের ভিতরে কোথাও কোথাও ধিকিধিকি আগুন জ্বলার খবর এসেছে। দমকল সূত্রে খবর, বড় আগুন লাগলে বহু সময় এমন পকেট ফায়ার থাকে। এক্ষেত্রেও তাই হয়েছে। সোমবার একাধিক মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে ওই মোমো কারখানা থেকে। যেসব মৃতদেহগুলি উদ্ধার হয়েছে, সেগুলি আগুনে কার্যত ঝলসে গিয়েছে। মৃতদের পরিচয় জানার জন্য ডিএনএ টেস্ট হবে বলে খবর।
কীভাবে আগুন লাগল, অগ্নিনির্বাপণ সুরক্ষা ব্যবস্থা সেখানে ছিল কিনা? সব কিছুর তদন্ত হবে। এই কথা প্রশাসন সূত্রে প্রাথমিকভাবে জানানো হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস, স্থানীয় সাংসদ সায়নী ঘোষ, বিধায়ক ফিরদৌসি বেগম। তবে সোমবার ঘটনাস্থলে যাননি দমকল মন্ত্রী সুজিত বসু। তাই নিয়ে কটাক্ষ করেছিল বিরোধী শিবির। মঙ্গলবার সকালে সুজিত বসু ঘটনাস্থলে যান। তিনি জানান, অনেক ব্যবসায়ী প্রোটোকল মানেন না। সেকারণেই এই ধরনের ঘটনা ঘটে। সোমবার ঘটনাস্থলে না যেতে পারার কারণ স্বরূপ তিনি জানান, ঘটনাস্থলের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল। কিন্তু নানান কাজে থাকার জন্য আসতে পারেননি।
