ওঙ্কার ডেস্ক: ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবি হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের। ইতিমধ্যে দলের বিরুদ্ধে মন্তব্য করে জোড়াফুল শিবিরের শীর্ষ নেতৃত্বকে অস্বস্তিতে ফেলেছেন একাধিক নেতা। সদ্য বারাসত সাংগঠনিক জেলার সভাপতি পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। মঙ্গলবার কল্যাণীতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ডাকা প্রশাসনিক বৈঠকে হাজির ছিলেন বারাসতের সাংসদ। যা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে চর্চা। এই আবহে সমাজ মাধ্যমে বেসুরো মন্তব্য করলেন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ সুখেন্দু শেখর রায়।
নিজের এক্স হ্যান্ডেলে তৃণমূল সাংসদ লিখেছেন, ‘খ্রিস্টপূর্ব ৪৪ সালে মার্চের ‘আইডস’-এর দিন রোমান সম্রাট জুলিয়াস সিজার সেনেটের মধ্যেই ছুরিকাঘাতে নিহত হন। রোমান ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ‘আইডস’ সাধারণত মার্চ, মে, জুলাই ও অক্টোবর মাসের ১৫ তারিখকে বোঝানো হত। কিন্তু এ বছরের মে মাসের ‘আইডস’ আসার আগেই পশ্চিমবঙ্গের মানুষ অসহনীয় নৈরাজ্য পরিস্থিতির অবসান ঘটিয়েছেন।’ সুখেন্দু শেখরের এই মন্তব্য নিয়ে জোর জল্পনা তৈরি হয়েছে। তিনি কি সুনির্দিষ্টভাবে তৃণমূলের নাম না নিয়ে জোড়াফুল শিবিরের পতনকে বোঝাতে চাইলেন? প্রসঙ্গত, পশ্চিমবঙ্গে দু দফায় বিধানসভা নির্বাচন হয়েছে এপ্রিলে। ফল ঘোষণা হয়েছে ৪ মে। ২৯৪ আসনের মধ্যে ২০৮ আসন পেয়ে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে বিজেপি।
গত ৯ মে ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের উপস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন শুভেন্দু অধিকারী। সেই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দেশের বিভিন্ন বিজেপি শাসিত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরাও। দীর্ঘ ১৫ বছরের তৃণমূল জমানায় আরজি কর কাণ্ড, বকটুই গণহত্যা কাণ্ডের মতো ঘটনা ঘটেছে। জোড়াফুল শিবিরের নেতাদের বিরুদ্ধে তোলাবাজি, হুমকি ও দুর্নীতির অভিযোগ ছিল। এদিন সমাজ মাধ্যম পোস্টে পূর্বতন সেই শাসকদলকে নিশানা করলেন বলে মত রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের।