ওঙ্কার ডেস্ক: রাজ্যের সমস্ত সরকারি দফতরে স্মার্ট বিদ্যুৎ মিটার বসানোর নির্দেশ দিল নবান্ন। বিদ্যুৎ ব্যবহারে স্বচ্ছতা আনা, অপচয় রোধ করা এবং সরকারি খাতে ব্যয় নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে। সম্প্রতি মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল এ সংক্রান্ত নির্দেশ জারি করেছেন। নির্দেশ অনুযায়ী, রাজ্যের বিভিন্ন সরকারি দফতর, অধীনস্থ সংস্থা ও সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলিতে পর্যায়ক্রমে স্মার্ট মিটার স্থাপনের কাজ সম্পন্ন করতে হবে।
প্রশাসনের মতে, স্মার্ট মিটার ব্যবস্থার মাধ্যমে বিদ্যুৎ খরচের তথ্য রিয়েল-টাইমে পাওয়া যাবে। ফলে কোন দফতরে কত বিদ্যুৎ ব্যবহৃত হচ্ছে, কোথায় অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে এবং কোথায় বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের সুযোগ রয়েছে, তা সহজেই চিহ্নিত করা সম্ভব হবে। এর ফলে বিদ্যুৎ ব্যবহারের উপর আরও কার্যকর নজরদারি চালানো যাবে এবং অপ্রয়োজনীয় অপচয় অনেকটাই কমানো সম্ভব হবে বলে মনে করছে সরকার।
সরকারি মহলের একাংশের মতে, দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন সরকারি অফিসে বিদ্যুৎ ব্যবহারের ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণের অভাব এবং বিল পরিশোধ সংক্রান্ত নানা জটিলতার অভিযোগ উঠছিল। স্মার্ট মিটার চালু হলে সেই সমস্যাগুলির সমাধান অনেকটাই সহজ হবে। বিদ্যুৎ ব্যবহারের তথ্য ডিজিটাল পদ্ধতিতে সংরক্ষিত হওয়ায় হিসাবরক্ষণ এবং পর্যবেক্ষণও আরও আধুনিক ও নির্ভুল হবে। সাম্প্রতিক সময়ে সরকারি খরচ কমানোর লক্ষ্যে একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। প্রশাসনিক কাজে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো, অপ্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ অপচয় রোধ, শক্তি সাশ্রয় এবং সরকারি সম্পদের দক্ষ ব্যবহার নিশ্চিত করার উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। স্মার্ট মিটার স্থাপনের সিদ্ধান্ত সেই নীতিরই ধারাবাহিকতা।
বিদ্যুৎ দফতরের আধিকারিকদের মতে, স্মার্ট মিটারের মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কত ইউনিট বিদ্যুৎ খরচ করছেন, তার বিস্তারিত তথ্য সহজেই জানা যায়। ফলে বিদ্যুৎ ব্যবহারে সচেতনতা বৃদ্ধি পায় এবং খরচ কমানোর প্রবণতাও তৈরি হয়। সরকারি দফতরগুলির ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তি চালু হলে রাজ্য সরকারের বিদ্যুৎ সংক্রান্ত ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়াও স্মার্ট মিটার ব্যবস্থার ফলে বিদ্যুৎ সংযোগ, বিল সংক্রান্ত তথ্য এবং ব্যবহার সংক্রান্ত নানা পরিষেবা আরও দ্রুত ও স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে। প্রশাসনের বিশ্বাস, এই পদক্ষেপ শুধু বিদ্যুৎ সাশ্রয়ই নয়, সরকারি পরিষেবায় ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
নবান্নের নির্দেশের পর সংশ্লিষ্ট দফতরগুলি ইতিমধ্যেই প্রস্তুতি শুরু করেছে বলে জানা গিয়েছে। আগামী দিনে রাজ্যের সমস্ত সরকারি কার্যালয়কে স্মার্ট মিটারের আওতায় আনার লক্ষ্য নিয়েই এগোচ্ছে প্রশাসন। এর মাধ্যমে সরকারি খাতে শক্তির সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি রাজ্যের আর্থিক সাশ্রয়েও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।