ওঙ্কার ডেস্ক: ইরানের ওপর ক্ষুব্ধ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রবিবার আমেরিকা-ইরান সংঘাত ১০০ দিন পেরোল। এখনও ইরান-আমেরিকা শান্তিচুক্তি অধরা। আর সেই কারণে ইরানিদের ‘উন্মাদ’ বলে কটাক্ষ করলেন ট্রাম্প। রবিবার একটি সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন। এমনকি দেশটিকে ‘উড়িয়ে দেওয়ার’ও হুমকি দেন ট্রাম্প। এক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে ট্রাম্প বলেন, “আমাকে একটি অত্যন্ত শক্তিশালী, অত্যন্ত বিপজ্জনক দেশকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করা থেকে থামাতে হয়েছিল। কারণ, তারা এটি ব্যবহার করত। তারা পৃথিবীকে উড়িয়ে দিত। তারা উন্মাদ। তারা পাগল।” ট্রাম্পের দাবি, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র পেতে না দিয়ে তিনি বিশ্ব ও আমেরিকার ‘উপকার’ করছেন। এর সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, “তিনি আলোচনার মাধ্যমে ইরানের তথাকথিত পারমাণবিক অস্ত্র থাকার বিষয়টি নিষ্পত্তি করতে চান এবং একই সঙ্গে কড়া হুমকিও দিয়েছেন।” তাঁর সংযোজন, “আমরা আলোচনার মাধ্যমেও চুক্তির খুব কাছাকাছি চলে এসেছি।” ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি, “এর অন্যথা হলে আমি তাদের একেবারে উড়িয়ে দেব এবং সেটা আমার জন্য খুবই সহজ হবে।”
ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধটি কোনও অন্তহীন সংঘাত নয়। তিনি বলেন, “আমি এই অন্তহীন যুদ্ধগুলো পছন্দ করি না। এটা কোনও অন্তহীন যুদ্ধ নয়। তিন মাস ধরে এই যুদ্ধ চলছে এবং এর বেশির ভাগ সময়ই যুদ্ধবিরতি ছিল।”
এই সমস্যার প্রধান কারন হিসাবে বলা যায়, মূলত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ব্যবস্থাপনাই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার দীর্ঘদিনের মতভেদের অন্যতম প্রধান কারণ। কোনও কোনও মার্কিন কর্মকর্তা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ধ্বংস না-করা হলে ইরানের অবরুদ্ধ করে রাখা সম্পত্তি কোনোভাবেই অবমুক্ত করা যাবে না।
তবে অন্যান্য বিদেশি গণমাধ্যমের সূত্রে জানা গেছে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি এই মর্মে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন যে, দেশের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত কোনও অবস্থাতেই বিদেশে হস্তান্তর করা যাবে না। ইরানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা মনে করেন, এই পারমাণবিক কাঁচামাল যদি বিদেশে হস্তান্তর করা হয়, তবে দেশটির ওপর মার্কিন ও ইসরায়েলি আক্রমণের আশঙ্কা আরও বহুগুণ বেড়ে যাবে।
সংঘাতের আর একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল ইরানের পরমাণু কর্মসূচি। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, তেহরান সীমিত সময়ের জন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি স্থগিত রাখতে প্রস্তুত থাকলেও কোনও পরমাণু কেন্দ্র ধ্বংস করতে রাজি নয়। এই অবস্থান ওয়াশিংটনের সঙ্গে মতপার্থক্য আরও বাড়িয়েছে। এ দিকে ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু-ও ইঙ্গিত দিয়েছেন যে পরিস্থিতি এখনও নিয়ন্ত্রণে আসেনি। তাঁর বক্তব্য, ইরানের ইউরেনিয়াম মজুত, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক গোষ্ঠীগুলিকে কেন্দ্র করে উদ্বেগ এখনও রয়ে গিয়েছে।
হরমুজ প্রণালী ঘিরে সামরিক তৎপরতাও বেড়েছে। ইরানের সামরিক বাহিনী হুঁশিয়ারি দিয়েছে, তেহরানের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া দেশগুলির জাহাজ এই প্রণালী ব্যবহার করলে তারা সমস্যার সম্মুখীন হতে পারে। অন্য দিকে, উপসাগরীয় অঞ্চলে ড্রোন হামলা ও নৌ নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। গত মাসে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা হলেও বাস্তবে সংঘাত ও উত্তেজনা পুরোপুরি থামেনি। বিশেষ করে দক্ষিণ লেবাননে ইজরায়েল ও হিজবুল্লার সংঘর্ষ এখনও অব্যাহত। ফলে কূটনৈতিক আলোচনা চললেও পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি এখনও অত্যন্ত স্পর্শকাতর বলেই মনে করছে আন্তর্জাতিক মহল।