শৈশবেই বিয়ের প্রস্তাব। মাত্র ১৩ বছরেই বিয়ে। কিন্তু সেই বিয়ে থামিয়ে দিতে পারেনি এক কিশোরীর স্বপ্নকে। বরং সেই ক্ষতই হয়ে উঠেছিল লড়াইয়ের আগুন।
অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময় ক্লাসের জানালার বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা টাকমাথা পাত্রকে দেখিয়ে বলা হয়েছিল—‘এই যে পাত্রী।’ অপমান, রাগ আর অসহায়ত্বের সেই মুহূর্ত আজও তাঁর স্মৃতিতে তাজা। নবম শ্রেণিতেই বিয়ে। কবি হওয়ার স্বপ্নও থেমে গেল অঙ্কুরেই।
কিন্তু থামেননি রোশেনারা খান। নিজের জীবনে বাল্যবিবাহ, বৈষম্য আর বঞ্চনার অভিজ্ঞতা তাঁকে ঠেলে দিয়েছে অন্য মেয়েদের পাশে দাঁড়ানোর পথে। বিশেষ করে পিছিয়ে পড়া মুসলিম মেয়েদের অধিকার, শিক্ষা ও মুক্তচিন্তার জন্য কয়েক দশক ধরে লড়াই করে চলেছেন তিনি।
আজ ৬৯-এর রোশেনারা ফিরে তাকিয়েছেন সেই দীর্ঘ পথের দিকে। সমাজ, সংস্কার, রাজনীতি, অর্থনীতি, শিক্ষা আর নারীর অসম লড়াই—সবকিছুর সাক্ষী তাঁর জীবন। সেই জীবনকথাই একমলাটে—‘যেতে যেতে পথে’।
এক কিশোরীর থেমে যাওয়া স্বপ্ন থেকে হাজার মেয়ের পথ দেখানোর গল্প—এ যেন শুধু আত্মজীবনী নয়, উজান স্রোতে এগিয়ে চলার এক অদম্য কাহিনি।
বিবেকানন্দ দাস
যেতে যেতে পথে
রোশেনারা খান
সহজপাঠ
মূল্য ৪৯৫/-